সেই তরুণি স্বাভাবিক হয় নি এখনো

বিশেষ প্রতিনিধি
দিরাইয়ে চলন্ত বাসে নির্যাতিতা ছাত্রীটি এখনো স্বাভাবিক হয় নি। মা বাবার কাছে গিয়েছে সে। বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণ কারী আদালত দিরাইয়ের বিচারক শুভদীপ পালের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয় সে। পরে তাকে মা-বাবার কাছে দেন আদালত। কোর্ট ইন্সপেক্টর আশেক সুজা মামুন শনিবার এই তথ্য জানিয়েছেন।
মেয়েটির কাকা জানান, বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী দিরাই আদালতের বিচারক শুভদীপ পালের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেবার আগে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের কাছেও ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দেয় মেয়েটি।
ওই সময় মেয়েটির সঙ্গে তিনি (কাকে) ছিলেন জানিয়ে বলেন, পুলিশ সুপার তাকে (মেয়েটিকে) ঘটনা জানতে চাইতেই কাঁদতে থাকে সে।
কাঁদতে কাঁদতে পুলিশ সুপারকে সে (মেয়েটি) জানায়, বোনের জামাই লামাকাজি থেকে বাসে তুলে দেন তাকে। লোকাল বাস ছিল সেটি। দিরাইয়ে পৌঁছার কয়েক কিলোমিটার আগেই বাসে কোন যাত্রী ছিলেন না। চালক তার আসন থেকে ওঠে আসে তার (মেয়েটির) পাশে। দুটি স্টেশনে যাত্রীরা বাস থামানোর চেষ্টা করলে হেলপার জানিয়ে দেয়, এটি রিজার্ভ বাস। এক পর্যায়ে চালক শরীরে হাত দিলে সে চিৎকার দিয়ে হেলপার কন্ড্রাক্টরের সাহায্য চেয়ে বলে, তিনি আমার সঙ্গে এমন আচরণ করছেন, আপনারা কী দেখছেন না। দয়া করে তাকে আটকান। তারা দুজনের কেউই তার আকুতিতে সাড়া দেয় নি। এক পর্যায়ে তার (মেয়েটির) হাতের মোবাইল ও ব্যাগ কেড়ে নেয় চালক। দুজনের মধ্যে টানা হেছড়া শুরু হয়।
চালক তার চুলে এবং হাতে ধরে, অনেক চেষ্টা করে হাত ছাড়িয়ে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে সে।
মেয়েটির কাকা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে মেয়েটি বাবা-মা ও ভাই বোনের সঙ্গে থাকলেও এই প্রসঙ্গে কেউ কিছু বললেই, কাঁদতে থাকে সে। এজন্য কাউকেই এই বিষয়ে কিছুই বলতে দিচ্ছেন না তারা।
তিনি জানান, শনিবার সকালে বাস চালক শহিদ গ্রেপ্তার হবার পর সিআইডি অফিস থেকে ফোন দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেন। এসময় সে বাসের আরেক স্টাফ গ্রেপ্তার হয়েছে কী না জানতে চেয়েছে মেয়েটি।
গত ২৬ ডিসেম্বর শনিবার বিকালে সিলেটের লামাকাজী থেকে দিরাইয়ে যাচ্ছিলেন ওই কলেজ ছাত্রী। দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামের পাশে এসে যাত্রীবাহী ওই বাসে একা হয়ে যান তিনি। অন্য যাত্রীরা নেমে যায়। এসময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে চালক ও সহকারীরা। সম্ভ্রম বাঁচাতে ওই ছাত্রী চলন্ত বাস থেকেই লাফিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে সড়কের পাশ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দিরাই হাসপাতালে নেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে নির্যাতিতার স্বজনসহ স্থানীয়রা রাতে দিরাই থানার সামনে বিক্ষোভ করে। পুলিশ রাতেই বাসটি জব্দ করে।
এঘটনায় ওই দিন রাতেই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাসের চালক শহীদ মিয়া ও হেলপার রশিদ আহমদসহ ৩ জনকে আসামী করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি দিরাই পৌর শহরের মজলিশপুর গ্রামে। সে দিরাই ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।