সেই প্লাবনকে উপহারের ঘর দেওয়া হবে

স্টাফ রিপোর্টার
গেল জুনের ভয়াবহ বন্যার সময় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জন্ম নেয়া শিশুর নাম প্লাবন রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার সেই প্লাবনকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। বুধবার দুপুরে প্লাবনের মা- বাবার কাছে এই সহায়তা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরও দেওয়া হবে প্লাবনকে।
গত ১৬ জুনে ভয়াবহ বন্যায় জেলাজুড়ে কোথাও দাঁড়ানোর শুকনো জায়গা ছিলো না। হাসপাতালসহ উঁচু ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন বন্যার্তরা। ১৭ জুনে ঘরে কোমর সমান পানি। এরমধ্যেই পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা জমিলা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের দিকে রওনা হন জমিলা। কিন্তু সড়কে বুক সমান পানি থাকায় তারা আটকা পড়েন। পরে তাদেরকে জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর তাঁর কার্যায়ের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। ১৮ জুন (শনিবার) সকাল ১০ টায় জমিলার কোল আলো করে জন্ম নেয় পুত্রসন্তান।
সাথে সাথেই জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানালে, প্রধানমন্ত্রী শিশুটির নাম রাখেন প্লাবন। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিশুকে উপহার সামগ্রী পাঠিয়ে দেন তিনি।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আবারও নগদা খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় প্লাবনের মা জমিলা খাতুনকে। সহয়তা পেয়ে জমিলা খাতুন বললেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে আসছিলাম। তিনি আমাদেরকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। যেকোনো প্রয়োজনে আসতে বলেছেন। আমরা আনন্দিত। প্লাবনের বাবা সুমন মিয়াও বললেন, আমরা অন্যেও বাড়িতে থাকি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু আমার ছেলের নাম রেখেছেন, আমাদের মাথা গুঁজার ঠাঁইও দেবেন।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, প্রধানমন্ত্রী শিশুটির নাম প্লাবন রেখেছেন। তার জন্য উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন। প্লাবনের সব সময় খোঁজখবর রাখার জন্যও আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু প্লাবনের বাবার নিজের জমি নেই, ঘরও নেই। তাই তাকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি ঘর দেওয়া হবে। আগামী একমাসের মধ্যে সদর উপজেলার লালপুরে একশটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সেখানেই প্লাবনের নতুন ঠিকানা হবে।