স্কুল আঙ্গিনায় শিক্ষার্থী আগমন শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের স্কুলের আঙিনায় আসতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। যেন প্রাণ ফিরছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও রোববার স্কুলের বারান্দায় এসে ঘুরেছেন প্রায় ১১ মাস পর। সুনামগঞ্জ শহরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শুক্রবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়ার চিঠি পেয়ে সুনামগঞ্জ শহর ও হাওরাঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বরে রোববার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দীর্ঘদিন পর এসেছেন। একে অপরের সঙ্গে দেখা ও কূশল বিনিময় করেছেন।
সুনামগঞ্জ শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী অভিভাবক এসেছেন বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। কেউ বিদ্যালয়ের ভর্তি ফি দিতে, কেউ নতুন বই সংগ্রহ করতে, আবার অনেকে এসেছেন কবে পাঠদান শুরু হচ্ছে জানতে। অনেক অভিভাবক এসেছেন তাদের ছোট্ট বাচ্চাটিকে কবে পাঠাবেন শ্রেণিকক্ষে বসার জন্য শিক্ষককে জিজ্ঞেস করতে, একইসঙ্গে স্কুলের পরিবেশও দেখে যাচ্ছেন তারা।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে রোববার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবককে দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী দুর্বার সামি আদি বললো, তাদের সহপাঠিদের অনেকেই এসেছেন কবে থেকে তাদের ক্লাস শুরু হবে জানতে। অনলাইনে ফেসবুকে তারা দেখেছে তাদের ক্লাস হবে, কবে হবে সেটি জানার জন্য এসেছে। আদি জানালো, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বিদ্যালয়ে এসে পরীক্ষার আগের ক্লাসগুলো করতে চায় তারা।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজুর রহমান বললো, তারা স্কুলে আসতে চায়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার সেই পরিবেশ যেন করেন সেটিই চায় তারা।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজুর রহমান বললো, জেএসসি পরীক্ষা দিতে না পারার কষ্ট আছে আমাদের। অনেক প্রস্তুতি নেবার পরও দিতে পারি নি। এখন নবম শ্রেণিতে ওঠেছি ক্লাস করা জরুরি, স্যারদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি এবং দেখতে এসেছি স্যাররা কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান বললেন, বিদ্যালয়ের সব কয়টি কক্ষ, বিজ্ঞানাগার সবকিছুই ধুয়া-মুছা করানো হচ্ছে। শিক্ষকরা বেশিরভাগেই স্কুলে এসেছেন। রোববার বহু শিক্ষার্থী অভিভাবক এসেছেন কবে পাঠদান শুরু হবে জানতে, তাদের জানিয়েছি সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি আমরা।
সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী বললেন, বিদ্যালয়ের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে সকল আপডেট জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চক্রবর্তী জানালেন, বিদ্যালয়ের আইসিটি লার্নিং সেন্টার, বিজ্ঞানাগার, ক্লাসরুম, ড্রেন, খেলার মাঠ সবই পরিস্কার করণের কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে মাঠের একপাশে হাতধোয়ার চেম্বার করণের কাজও শুরু করেছেন তারা।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বললেন, এবার যারা এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের অনেকে এখনো তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখার সুযোগ পায় নি। সরকার এখন ধাপে ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া জরুরি। এর আগে কখনোই এতো দীর্ঘ ছুটি শিক্ষার্থীরা ভোগ করে নি। এমন কি মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এবারের মতো দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল না।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষ নির্ভর পাঠদান না হলে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হয়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সেটি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫ম, ৮ম. ১০ম ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান নিশ্চিত করার সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। বই বিতরণও শেষ। শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কবে তারা বিজ্ঞানাগারে আসবে, ক্লাসে পাঠদান শুরু করবে।