স্কুল খুলতে পারলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হবে : প্রতিমন্ত্রী

সু.খবর ডেস্ক
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেছেন, স্কুল খুলতে পারলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেপ্টেম্বরে খুলতে পারলেও প্রস্তুতি আছে, অক্টোবরে খুলতে পারলেও প্রস্তুতি আছে। তবে করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকলে গতবারের মতো মূল্যায়ন করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গতবার পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ওপরের ক্লাসে ওঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁরা চাচ্ছেন তাড়াতাড়ি স্কুল খুলে দিতে। প্রধানমন্ত্রী দুটি মিটিংয়ে বলেছেন। মন্ত্রণালয়সহ সবাই মিলে স্কুলগুলো সুন্দর রাখা হচ্ছে, যাতে যেকোনো সময় স্কুল খুলে দিয়ে কাজ করা যায়। আগে তাঁদের একটি পরিকল্পনা ছিল যে ধাপে ধাপে খোলা। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম হয়তো দুই দিন করা; প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য সপ্তাহে এক দিন করে খোলা। এভাবেই করতে চাচ্ছেন।
পরীক্ষার বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, তাঁরা সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির চিন্তা ভাবনা করছেন। সেটা সমাপনীতেও ব্যবহার হবে। কে কীভাবে কী করল, তার মূল্যায়নের ভিত্তিতে রেজাল্ট দেওয়া হবে। সশরীর পরীক্ষা যদি নিতে না পারা যায়, তাহলে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল দেওয়া হবে। স্কুল খুলতে পারলে পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেপ্টেম্বরে খুলতে পারলেও প্রস্তুতি আছে, অক্টোবরে খুলতে পারলেও প্রস্তুতি আছে। বাড়ির কাজ (ওয়ার্কসিট) দেওয়া হচ্ছে সিলেবোস অনুযায়ী, এটিও একটি মূল্যায়ন। এটি দেওয়ার কারণে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকলে গতবারের মতো মূল্যায়ন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা হলো, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা। তবে দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।
স্কুল খোলার রূপরেখা নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ডব্লিউএইচও সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্ত তো লাগবে। স্কুল হুট করে তো খুলে দেওয়া যাবে না। আরেকটু স্বাভাবিক হলে হয়তো খোলা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অক্টোবরের আগে সম্ভব কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক তিনি বলতে পারবেন না। যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিলে, তারা প্রস্তুত আছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর থেকে বাচ্চারা বাড়িতে আছে। নানা ধরনের কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। পড়াশোনা থেকে দূরে যাচ্ছে। গ্রামের বাচ্চারা তো খেলাধুলা নিয়ে মত্ত। অনলাইনে অনেকে বাজে গেমস খেলছে। যখন পড়াশোনা থাকে না, স্কুল থাকে না তখন বিভিন্নভাবে আড্ডা দেয়। চরের বাচ্চাদের বাল্যবিবাহের কিছুটা প্রবণতা বাড়ছে। এসব মিলে তাঁরা চাচ্ছেন, যত তাড়াতাড়ি স্কুল খুলে দিতে। স্কুল খুললে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সেই নির্দেশনাও দেওয়া আছে। প্রাথমিকের ৮৫ শতাংশ শিক্ষক ইতিমধ্যে করোনার টিকা নিয়েছেন। সবাইকে টিকা দেওয়া হবে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, এ ছুটি আছে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিকল্প উপায়ে টিভি, অনলাইন, অ্যাসাইনমেন্টসহ বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা হলো শ্রেণিকক্ষে যেভাবে পড়াশোনা হতো, তা এসবের মাধ্যমে হচ্ছে না। আবার সবাই এসবের সুবিধাও পাচ্ছে না। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, তাদের পরিকল্পনা হলো, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা। তবে দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।
সূত্র : প্রথমআলো