স্কুল বন্ধ, বিপথমুখি শিশুরা- অনেকে আসক্ত হচ্ছে ই-সিগারেটে

আকরাম উদ্দিন
করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মানসিকতার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার একাধিক অভিভাবক জানান, করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়িতে শিশু শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে চায় না। ঘরে থাকলে টিভি দেখে ও মোবাইলে গেইম খেলে নয়তো পাড়ার দোকানে কেরাম খেলায় বেরিয়ে পড়ে। সবচেয়ে বিপদজনক বিষয় হচ্ছে শিশুরা হাত খরচের টাকা নিয়ে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক সিগারেটে আসক্ত হচ্ছে। রিচার্জেবল ব্যাটারী চালিত বিভিন্ন ফ্লেভারের ই-সিগারেটে লিকোইড মিশ্রিত থাকে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এই ই-সিগারেটের দাম ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা পর্যন্ত আছে। সিগারেটের মেশিনে যে ফ্লেভারের লিকোইট ঢুকানো হবে, ধূঁয়ায় সেই ফ্লেভারের ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
ই-সিগারেটের ধুমপায়ী রিপন মাহমুদ বলেন, সাধারণত এই ই-সিগারেট কম দামের মেশিনটা ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়। এটার সাথে লিকুইট পাওয়ায় সর্বনি¤œ ৩০ টাকায়। মেশিনে লিকুইট ঢুকানোর পর সিগারেটে ধোঁয়া বের হয়। এই সিগারেট শখের বশে অনেকে ব্যবহার করে থাকেন। ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রের কারণে এটার ক্ষতির দিকও আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের একজন ব্যবসায়ী জানান, আমার দোকান থেকে বড়দের কথা বলে ছোট শিশুরা প্রায়ই বেশ দামী ই-সিগারেট কিনে নেয়। যে সময় ই-সিগারেট নেয়, তখন দেখা যায় ৫-৬ জন শিশুর একটি দল। এরা সবাই শিক্ষার্থী এবং ভাল পরিবারের মনে হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের প্রায় ১২ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোর ধূমপান করে থাকে, যাদের অধিকাংশের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। বৈশ্বিক সংস্থাটি বলছে, ধূমপানে আসক্ত এই শিশুদের ৭৫ ভাগ ছেলে আর ২৫ ভাগ মেয়ে। বিজ্ঞাপনের প্রভাব এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে সিগারেট বিক্রি হওয়ার কারণেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ধূমপানের প্রভাব বিস্তার করছে।
অভিভাবক সাজাউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা বিচ্ছিন্ন হয়েছে শিক্ষা জীবন থেকে। অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক কাজে এবং পিতার ব্যবসার কাজে যুক্ত হয়েছে। আবার অনেক শিশু অলস সময় কাটাতে বিপথে যাচ্ছে।
অভিভাবক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের পড়াশুনা তেমন হচ্ছে না। ঘোরাঘুরি খেলাধুলায় সময় পার করছে।
শহরের বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়েছে। মোবাইল বা কম্পিউটারে গেইম খেলায় মনোযোগী হয়েছে। স্কুল খোলার খবর নিতে এসে অনেক অভিভাবকেরা এমন কথা জানিয়েছেন।
সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সৈকত দাস বলেন, সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট বেশি ক্ষতিকর। কারণ সাধারণ সিগারেটের নিকোটিন থাকে, ই-সিগারেটে থাকে লিকুইড। এই লিকুইড সরাসরি ভেতরে চলে যায়। এই কারণে এটার ক্ষতির দিক অনেকটা বেশি।