স্বতন্ত্রে বেকায়দায় বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি
তিন মাস ৬ দিনের মাথায় আবারও পৌর মেয়র নির্বাচিত করার জন্য ভোট দেবেন সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুসিত পৌরসভা জগন্নাথপুরের ভোটাররা। এই পৌরসভায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক পৌর মেয়র আক্তারুজ্জামান স্বতন্ত্র এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুজ্জামান দলের প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয় ভোটাররা বলেছেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এই পৌরসভায় বেকায়দায় থাকে বিএনপি। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ওঠে আসবেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স্বতন্ত্রপ্রার্থী আক্তারুজ্জামান।
এই পৌরসভার বর্তমান মেয়র যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রশিদ ভুঁইয়া গত ১০ অক্টোবরের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন। পহেলা নভেম্বর শপথ নিয়ে নভেম্বরের দুই তারিখে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গেল নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটেতই আবার এই পৌরসভায় ১৬ জানুয়ারি নির্বাচন। নির্বাচনে এবারও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন মিজানুর রশিদ ভূইয়া। বিএনপি প্রার্থী করেছে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুজ্জামানকে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা, সংগঠনের সাবেক উপজেলা সভাপতি আক্তারুজ্জামান। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আমজাদ আলী শফিক ও ব্যবসায়ী বিষ্ণু রায় বিশ^। ১০ অক্টোবরের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রশিদ ভুইয়া (নৌকা) ৬১৭৭ নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রয়াত মেয়র আব্দুল মনাফের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল হোসাইন সেলিম (জগ) পেয়েছিলেন ৩৬৩৭, বিএনপি প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজু আহমেদ (ধানের শীষ) ১৩৪৩ এবং বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী আবিবুল বারী আয়হান (মোবাইল ফোন) পেয়েছিলেন ১০১৬ ভোট।
আবিবুল বারী আয়হানের চাচা সাবেক পৌর মেয়র আক্তারুজ্জামান এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ব্যক্তি ইমেজ ও পারিবারিক পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ভোটের লড়ইয়ে অংশ নিয়েছেন আক্তারুজ্জামান।
আক্তারুজ্জামান বললেন, আমি বিএনপির মনোনয়ন চাই নি। যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম কয়ছর আহমদ এখানে পারিবারিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান। এজন্য ২০১৬ সাল থেকেই বিএনপির রাজনীতি থেকে নিস্ক্রিয় আমি। ১৮-১৯ বছর বিএনপির রাজনীতি সংগঠিত করেছি আমি। সাধ্যমত চেষ্টা করেছি দলকে সংগঠিত করার। এখন দলের কমিটি যুক্তরাজ্য থেকে নাজিল হয়। দল করে একজন নেতা হয় অন্যজন। দলের অবস্থা হয়েছে, ‘লেজে কুকুর নাড়ানোর মত’।
আক্তারুজ্জামানের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু হুরায়রা ছাদ মাস্টার বলেন, আক্তারুজ্জামান উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা, তিনি দলের মনোনয়ন চান নি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর আগেও তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। ১৮ বছর তিনি বিএনপি করলেও দলের কোন লাভ হয় নি। লাভ হয়েছিল তাঁর নিজের। পৌরসভার মেয়র হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের স্বার্থ রক্ষা করেছেন সব সময়। আমি তাঁর প্রতিবেশি আমাকে মুখের কথাও জিজ্ঞেস করেন নি তিনি। তিনি তাঁর মত করে প্রার্থী হয়েছেন। আমাদের দলীয় প্রার্থী হারুনুজ্জামান নিবেদিত নেতা। তাঁর ভাই হাফিজুর রহমান আন্দোলন করতে গিয়ে মারা গেছেন। কয়ছর আহমদ পারিবারিক রাজনীতি করলে দলীয় ফোরামে কথা বলতেন আক্তারুজ্জামান। তিনি সেটা না করে এভাবে কথা বলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন।
বিএনপির দলীয় প্রার্থী জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুজ্জামান বললেন, বিএনপির প্রার্থী আমি ছাড়া আর কেউ আছে বলে আমার জানা নেই। আক্তারুজ্জামান উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা কী না, সেটাও আমি জানি না।