স্বল্পমূল্যে রেশনিং চালুর দাবি

করোনায় সরকার ঘোষিত লকডাউনের অজুহাতে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পূর্ণ বকেয়া মজুরি-উৎসব ভাতা, প্রণোদনা হিসেবে ১০ হাজার টাকা ও স্বল্পমূল্যে রেশনিং চালু করার দাবি জানিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন।
মঙ্গলবার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি লিলু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নিলোৎফল দাস বিপ্লব স্বাক্ষরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ ও লকডাউন বা শাটডাউনের কারণে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন হোটেল-রেস্টুরেন্টে কর্মরত শ্রমিকরা। গত বছর মার্চ মাস থেকে প্রায় ৩ মাস হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেল- রেস্টুরেন্ট-মিষ্টি-বেকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শ্রমিকদের মজুরিসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান বন্ধ করে দেন। আবারও আগামী ঈদুল আজহার পূর্ব মুহূর্তে আগামী ১লা জুলাই থেকে দেশব্যাপী ‘কঠোর লকডাউন’- তথা শাটডাউন শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চলমান বিধি-নিষেধে অনেক হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় শ্রমিকদেরকে চরম কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। করোনা দুর্যোগের বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মালিকরা শ্রমিকদের ছুটি প্রদান করেছেন। ফলে শ্রমআইন অনুযায়ী শ্রমিকরা সকলেই স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক মজুরিসহ অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্য। কিন্তু গত বছরে প্রতিষ্ঠান বন্ধকালীন সময়ে হোটেল মালিকরা শ্রমিকদের একটি টাকাও মজুরি প্রদান করেননি। এমন কি হোটেল বন্ধ করার সময় কোনো কোনো মালিক শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করেই শ্রমিকদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রদত্ত তথ্য মতে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা। বাংলাদেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্যে বৃহত্তর সেক্টর হচ্ছে হোটেল সেক্টর। সরকারি হিসেব অনুযায়ী এ খাতে কর্মরত আছেন প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক। গত বছর করোনার শুরু থেকে এ বছর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের আগ পর্যন্ত ৪০-৪৫ শতাংশ শ্রমিক বেকার ছিল। গত সাধারণ ছুটির নামে ‘লকডাউন’ কার্যকর করে টানা ৬৬ দিন হোটেল প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। এরপর সীমিত পরিসরে প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিলে মালিকরা করোনার অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে শ্রমিকদের আগের চেয়ে কম মজুরি ও বেশি শ্রম ঘণ্টায় কাজ করতে বাধ্য করেছে। করোনাকালে শ্রমিকরা মানবেতর জীবন-যাপন করতে শুধু বাধ্য হচ্ছে না। পারিবারিক জীবনেও আর্থিক সংকটের কারণে বহুমাত্রিক সমস্যার মধ্যে নিপতিত হচ্ছে। অনেক শ্রমিকরাই তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন কাজে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রেসবিজ্ঞপ্তি