স্বাস্থ্যবিধি অমান্য, জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

পুলক রাজ
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমজমাট হচ্ছে বিপণি কেন্দ্রগুলো। শুধু দিনেই নয়, রাতেও সমাগম দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত থাকলেও তা মানছেন না অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতারা। রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাহারি কাপড়, জুতা, টি-শার্ট, শাড়ী, টুপিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় দোকান ও শপিংমলে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। দোকান থেকে দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। পৌর শহরের মধ্যবাজার, সুরমা মার্কেট, নেজা প্লাজা, দোজ্জা শপিং সেন্টার, লন্ডন প্লাজাসহ সব কয়টা শপিংমল ছিল লোকে লোকারণ্য। একে অন্যের গায়ের সঙ্গে গা ঘেঁষে করছেন কেনাকাটা। অনেকের মুখে দেখা যায়নি মাস্কও।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখেই সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। লকডাউনের কারণে গতবারের মতো এবারও দোকান খোলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সরকার দোকানপাট খোলার অনুমতি দেয়ায় তারা খুশি। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।
নেজা প্লাজা রিনা ফ্যাশনে কাপড় বিক্রেতা মো. রুবেল বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য দুই বছর যাবত কাপড়ের ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতেই আমরা হিমশিম খাচ্ছি। মানুষের আর্থিক সমস্যা তো রয়েছেই। এর মধ্যে অনলাইনে কেনাকাটা করা মানুষের জন্য সহজ হয়ে গেছে। তারপরও গত বছর তো এরকমও ছিলো না। গত বছরের তুলনায় এ বছর কাপড়ের ব্যবসা ভালোই চলছে।
লন্ডন প্লাজা ওয়ার্ল্ড ফ্যাশনে কাপড় বিক্রেতা ইমদাদুল করিম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছরে বিক্রির পরিমাণ ভালো। যারা আসছেন কেনাকাটা করতে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মাস্ক পড়ার কথা বললে আরো রাগ করেন। আমাদের কাস্টমার যদি সিস্টেম না মানে তাহলে আমরা কি করবো। তারা রাগ করলে তো আমাদের ব্যবসা লাটে উঠে যাবে।
লন্ডন প্লাজা মোবারক ফ্যাশনের মালিক মোবারক হোসেন বলেন, আমাদের কাপড়ের মান ভালো। বেচাকেনাও জমে উঠেছে। আমাদের দোকানে ছোট বড় সবার জন্য ভালো মানের কাপড় পাবেন।
ক্রেতা নাদিয়া আফরিন বলেন, শপিংমলে কোন নিয়ম শৃংখলা নেই। কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। মাস্কও পড়ছে না। যার যার মত করে চলছে। অনলাইনেই কেনাকাটা করেছি। তারপরও কিছু কেনাকাটার বাকি রয়েছে তাই আসছি। ঈদে কাপড়ের বাজার বেশ জমে উঠেছে। কয়েক দিন পর ঈদ তাই শপিং শেষ করতে হচ্ছে দ্রুত।
ক্রেতা লাল মিয়া বলেন, শপিং করতে ভয় হয়। তারপরও ঈদের কেনাকাটা করেছি। এতো মানুষ বাজারে। কেউ কোন নিয়ম মানছে না, শারীরিক দূরত্বও রাখছে না।