স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই যাতায়াত করছেন রোগীর স্বজনরা

বিশেষ প্রতিনিধি
‘সাধারণ ওয়ার্ড না কি, করোনা ইউনিটের আইসোলেশনে থাকা রোগীর ওয়ার্ড বুঝা দায়, রোগীর স্বজনরা আসা যাওয়া করছেন ইচ্ছামত, করোনা ইউনিটের বাথরুমও ব্যবহার করে যাচ্ছেন আগন্তকরা। সংক্রমণ ছড়ানোর এমন স্পর্শকাতর স্থানটিতে অবাধ যাতায়াত ঠেকাতে কেউ বাধাও দিচ্ছেন না।’
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা কৃষকলীগ নেতা শামছুল হক এভাবেই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সংরক্ষিত করোনা ইউনিটে রোগীর স্বজনদের আসা যাওয়ার বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
জামালগঞ্জের ভীমখালীর বাসিন্দা শামছুল হক ১০ দিন হয় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আছেন, বললেন ডাক্তার-নার্সদের উপস্থিতি ও সেবা প্রশংসাযোগ্য, তবে ওয়ার্ডের বাথরুমগুলো খুবই অপরিস্কার থাকছে, করোনা ইউনিটকে সংরক্ষিত রাখা যাচ্ছে না, দর্শনার্থী স্বজনরা যে যার মতো, আসছেন যাচ্ছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করছেন, প্রতিদিনই এমন দৃশ্য দেখতে হচ্ছে আমাদের।
করোনায় আক্রান্ত ভাইকে নিয়ে ১২ দিন হাসপাতালের আইসোলেশনে ছিলেন শহরের ষোলঘরের গণমাধ্যমকর্মী আলী সিদ্দিক। বললেন, লেখা আছে করোনা ওয়ার্ড, আইসোলেশন ইউনিট, কিন্তু ১২ দিনের মধ্যে একদিনও প্রবেশ গেটে কোন নিরাপত্তা কর্মীকে দেখি নি, সকালে গেট খোলার পরে যে-যার মতো আসছে, যাচ্ছে। বেলা ১১ টায় ডাক্তার রাউন্ডে আসলে কিছুক্ষণের জন্য একটি ছেলেকে প্রবেশ গেটে দেখা যেতো, ডাক্তার রাউ- থেকে বের হলে তাকেও আর দেখা যেতো না, করোনা ওয়ার্ডের ৩ গেটের সবকয়টিই রাত ১২ টা পর্যন্ত অরক্ষিতই দেখেছি, আমরা থাকা অবস্থায় এই ওয়ার্ডে এক পাগলও ঢুকেছিল, রোগীর দুটি মোবাইলও চুরি হয়েছিল। করোনা ইউনিটে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকটের কথাও জানালেন আলী সিদ্দিক।
করোনা আক্রান্ত স্ত্রী লায়লা ৭ দিন হয় সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে থাকায় গণমাধ্যম কর্মী হাবিবুর রহমান জাবেদ ওখানে যাওয়া আসা করছেন। বললেন, রাত ১২ টা পর্যন্ত রোগী দেখার জন্য স্বজনরা যে যার মতো আসছেন যাচ্ছেন, স্যানিটাইজার ব্যবহার করছেন না, বুথের পাশের পানি সরবরাহের টেপগুলোও নষ্ট থাকায় হাত ধুয়েও বের হচ্ছেন না কেউ। ইউনিটের গরম পানির গ্রিজারও নষ্ট।
হাবিবুর রহমান জাবেদ, শামছুল হক ও আলী সিদ্দিক বললেন, করোনা ইউনিটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত না করলে ওখান থেকে করোনা সক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। রোগীর স্বজন যারা এখানে অবাধে যাতায়াত করছেন তারা করোনা নিয়ে কেবল নিজের বাড়ি নয়, যাতায়াত পথেও করোনা ছড়াচ্ছেন।
হাবিবুর রহমান জাবেদ বললেন, একজন রোগীর জন্য ৪-৫ জন স্বজন গড়ে প্রতিদিন করোনা ইউনিটের ভেতরে ঢুকেন, সোমবার ছিল ৫৭ জন রোগী, সেই হিসাবে কমপক্ষে ২০০ জনের যাতায়াত সোমবার ছিল করোনা ইউনিটে। এই অবস্থা ঠেকানো গেলে সক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি থাকবে এখানে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বললেন, দেড়বছর হয় করোনা মোকাবেলা করছি আমরা। স্বাস্থ্যবিধি কিভাবে মানতে হয় একেবারে গ্রামের সাধারণ মানুষও জানেন। এরপর করোনা ইউনিটে এসে রোগী দেখার জন্য, গেট খোলার জন্য চাপাচাপি করেন কেউ কেউ। করোনা ইউনিটে আইসোলেশনে থাকা রোগীর জন্য খাবার দাবার নিয়ে আসার জন্যও একাধিক ব্যক্তি আসার প্রয়োজন নেই। খাবার নিয়ে ভেতরে প্রবেশেরও প্রয়োজন নেই। আমাদের লোকজন আছে, ওদের কাছে খাবার সমঝে দিয়ে ফোনেও রোগীর সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। সকলেরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বা সচেতন থাকা প্রয়োজন। করোনা ইউনিটে প্রতি শিফটে দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করে। গেটে দায়িত্ব পালন করার স্টাফও আছে, আমি এই বিষয়টি খোঁজ নেব এবং আজ (সোমবার) থেকেই স্বজন বা দর্শনার্থীরা যাতে অবাধে প্রবেশ করতে না পারেন সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুথের পানির টেপ নষ্ট থাকলে সেটিও মেরামত করা হবে।