স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর দাবি পরিবহন শ্রমিকদের

সু.খবর ডেস্ক
গণপরিবহন চালুর দাবিতে আগামী ২ মে (রবিবার) থেকে সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন সড়ক পরিবহন শ্রমিকরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে এই পরিবহন চালাতে চায় তারা।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনটির ভাষ্য, করোনাভাইরাসের মহামারীতে সব কিছু চালু থাকলেও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে ৫০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। গণপরিবহন চালুর দাবি বাস্তবায়নে রবিবার বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি ৪ মে (মঙ্গলবার) সারা দেশে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচীও ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, বাংলাদেশে সড়ক পথে প্রায় ৭৫ শতাংশ যাত্রী ও ৬৫ শতাংশ পরিবহন হয়ে থাকে। একাজে প্রতিদিন ৫০ লাখ পরিবহণ শ্রমিক কাজ করে থাকে।
“করোনায় মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। আমরা লকডাউন বিরোধিতা করছি না। কথা ছিল, লকডাউনের সময় মানুষের চলাচল, শ্রমঘন শিল্প, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোর্ট-কাচারি সব বন্ধ থাকবে।
“সেই হিসাবে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলে পরিবহণ শ্রমিকের কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সবকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে লকডাউন শিথিল করায় গার্মেন্টস, শপিংমল, কাঁচা বাজার, অফিস আদালত চলছে।”
গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও বিকল্প যানবাহনে বাড়তি ভাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ অনিরাপদভাবে চলাচল করছে দাবি করে তিনি বলেন, এতে যেমন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে তাদেরকে হয়রানিরও শিকার হতে হচ্ছে।
“লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় ৫০ লাখ সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এতে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।”
এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ চালুর পাশাপাশি শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকায় চাল বিক্রির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি কতটুকু মানবে এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সহ সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু বলেন, “আমরা মাননীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা বলেছি শতভাগ স্বাস্খ্যবিধি না মানলে যে কোন শাস্তি আমরা মেনে নেব- এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ।”
শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ ছদু, মফিজুল হক, হুমায়ুন কবির খান ও আব্বাস উদ্দিন বেপু সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : জনকন্ঠ