স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন ধর্মপাশার সেই শিক্ষক

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সমকাল ও সুনামগঞ্জের খবরে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন তথ্য গোপন করে চাকরি লাভকারী সেনারুল ইসলাম নামের সেই শিক্ষক। সেনারুল ইসলাম ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কাইটাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। গত বুধবার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার পারভীন ওই শিক্ষকের পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে সমকাল ও
সুনামগঞ্জের খবরে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
জানা যায়, সেনারুল ইসলাম ২০০৬ সালে এসএসসি ও ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে ¯œাতক (সম্মান) পাস করেন। ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতভূক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ¯œাতক বা সমমানের ডিগ্রি চাওয়া হয় এবং ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত যোগ্যতা সম্পন্ন চাকরি প্রত্যাশীদের অনলাইনে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেনারুল ইসলাম ¯œাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী না হয়েও ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চাকরি প্রত্যাশী হিসেবে অনলাইনে আবেদন করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের ৬ মাস আগে আবেদনকারী সেনারুল ইসলাম ৫৪২০৭৯৬ রোল নম্বরের অধিকারী একজন প্রার্থী হিসেবে ২০১৮ সালের ১১ মে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরে একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ লাভ করেন। নিয়োগ লাভের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে প্রায়ই অনুপস্থিত থেকে ময়মনসিংহ শহরে অবস্থান করতেন। তিনি বিদ্যালয়ের সভাপতি জনসন সিসিমের মেয়ে রুমা ¤্রংকে দিয়ে পাঠদান করাতেন। বিনিময়ে রুমাকে মাসে তিন হাজার টাকা দিতে সেনারুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে সেনারুল ইসলামের সাথে কথা বলতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি এখন গাড়িতে আছি, পরে কথা বলেন।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার পারভীন বলেন, ‘সেনারুল ইসলাম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই শিক্ষক যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে থাকে তাহলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার ক্ষেত্রে তিন মাস আগে না জানালে এক মাসের মূল বেতন চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।’