স্মৃতিতে শিক্ষক ফারুক আহমদ

মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন
একজন দিলখোলা মানুষ, বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক উপকারী বন্ধু জনাব ফারুক আহমদ চলে গেলেন না ফেরার দেশে। প্রায় ২০বছর আগে শিক্ষকতায় এসেছিলেন। শিক্ষাদান করেছেন সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, পাগলা স্কুল এন্ড কলেজ ও সর্বশেষে শহরের বুলচান্দ স্কুল এন্ড কলেজে। সদালাপী, মিশুক, স্পষ্টভাষী, সাহসী ব্যক্তিত্ব ছিলেন ফারুক। তার স্পষ্টবাদীতায় কাউকে কষ্ট দিলে তার জন্য নিজেও পুড়তেন ভিতরে ভিতরে। যথা সম্ভব কম সময়ের মধ্যে ক্ষমা চেয়ে নিতেন। কারো বিপদ বা সমস্যার কথা শুনলে যথাসম্ভব সহায়তার হাত বাড়াতেন। চারপাশের খেঁাজ খবর রাখতেন। শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা নিয়ে ভাবতেন, উচ্চকণ্ঠ হতেন। নিজে কতটুকু পালন করতেন জানি না, কিন্তু মানুষ কে সদুপদেশ দিতেন। মানুষের ভালো গুণের উচ্ছসিত প্রশংসা করতেন। একজন মেধাবী ছাত্র ও শিক্ষক ছিলেন। প্রচন্ড জ্ঞান তৃষ্ণা ছিলো তার। একাডেমিক কোনো বিষয়ে না বুঝলে বা অস্পষ্টতা থাকলে জিজ্ঞেস করতে কুণ্ঠিত হতেন না। স্মার্টফোন, সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করতেন না। কিন্তু টিভি নিউজ, টকশো, স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার নিয়মিত পাঠক ছিলেন। সমসাময়িক প্রতিটি বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখতেন। চমৎকার বিশ্লেষণী ক্ষমতা ছিলো। কখনো কখনো কিছুটা অভিমানী ছিলেন। প্রচণ্ড প্রতিবাদী ছিলেন। রসবোধ ছিলো অসাধারণ। ফারুকের মতো একজন মানুষ আপনার পাশে থাকলে আপনার মন খারাপ থাকা অসম্ভব। কলেজ লাইফে ফারুকের সাথে পরিচয়। প্রচণ্ড মিশুক স্বভাবের জন্য বন্ধুত্ব হয়ে যায় সহসা। তার পর থেকে আর বিরতি নেই। ব্যক্তিগত জীবনে নিসন্তান বন্ধুটি তিন বছর আগে দত্তক নেন একজন অনাথ কন্যা শিশু। এই শিশুটিকে নিয়ে তার স্বপ্ন আর পরিকল্পনার অন্ত ছিলো না। উমরাহ ও হজ্জ করা নিয়ে প্রায়ই কথা বলতেন আমার সাথে। কিছুই করা হলো না আর। শুক্রবার রাতে হাসপাতালে পাঠানোর পর থেকে তার বৃদ্ধ মা পথ চেয়ে ছটফট করছিলেন অজানা আশঙ্খায়। বছর তিনেক আগে যে তিনি তার আরেক বুকের মানিক হারিয়ে সবেধন নীলমনি অবলম্বন করে ছিলেন। কীভাবে সামলাবেন নিজেকে! কী সান্তনা দেওয়ার আছে তাকে! ভাবীর কথা আর কী বলবো। পিতা— মাতা হারিয়ে, ভাই, সন্তান হীন যে মানুষটির একজন মানুষের জন্য আজীবনের স্বপ্ন বোনা, আজ পরম করুণাময় আল্লাহ তার সেই বান্দাকেই তার কাছে ডেকে নিলেন! বড় মিস করছি আমার বন্ধুটিকে। কারণে অকারণে, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে যে মানুষটি সকাল বিকাল কথা বলতেন, পিছু ডাকতেন, জড়িয়ে ধরতেন, তারে কী এতো সহজে ভুলা যাবে? তার স্মৃতি অমলিন রবে সহকর্মী, বন্ধুদের হৃদয়ে, অগণন শিক্ষার্থীর মানসপটে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু ভালোর জন্য করেন। আল্লাহ সবার প্রতি সহায় হউন। বন্ধু ফারুককে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতে চির শান্তিতে রাখুন। তার স্বজনদের ধৈর‌্যের সাথে শোক কাটিয়ে উঠার তৌফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক (ইংরেজি), সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ।