সড়কে অপরিকল্পিত উন্নয়ন মল্লিকপুর এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী যানজট

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের মল্লিকপুরে সড়কের কাজ অপরিকল্পিতভাবে শুরু করায় এবং শহরের জামাইপাড়া সড়কের মুখে ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় রবিবার সকালে শহর থেকে বের হবার একমাত্র সড়কে তীব্র যানজট ছিল। সার্কিট হাউসের সামনা থেকে মল্লিকপুর আব্দুজ জহুর সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ছিল অসহনীয় যানজট। সকালে পিইসি পরীক্ষার্থীকে নিয়ে অনেক কষ্টে হেঁটে যানজট এলাকা পার হয়েছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় লোকজন জানান, সড়কের মল্লিকপুর বিজিবি ক্যাম্পের সামনে হঠাৎ করেই কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে উন্নয়ন কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সড়কের একপাশে কাজ চালিয়ে, আরেক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখলেও ট্রাফিক কন্ট্রোল না থাকায় দীর্ঘ পথে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় । সপ্তাহের প্রথম অফিস দিন (রোববার) হওয়ায় এবং পিইসি পরীক্ষা থাকায় হাজীপাড়ার সার্কিট হাউসের সামনা থেকে মল্লিকপুর আব্দুজ জহুর সেতু পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়। এসময় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী অনেকেই অনেক কষ্টে এই পথ হেঁটে পার হয়।
একই সময়ে সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্টেশনের জামাইপাড়া সড়কে ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটে। পরীক্ষা কেন্দ্রগামী শিক্ষার্থী এবং সাধারণেরা কালীবাড়ী সড়ক ও আলফাত স্কয়ার হয়ে ডিএস রোড ব্যবহার করায় স্টেশন রোডেও যানজট তৈরি হয়। এই অবস্থায় একই সড়কের এক কিলোমিটারের মধ্যে দুটি স্থানে ভোগান্তিতে পড়েন শহর থেকে সিলেটগামী বা জেলা শহরের বাইরে থেকে শহরে আসা লোকজনেরা।
সকাল সাড়ে ৯ টায় মল্লিকপুরের রশিদ মিয়া তার মেয়েকে শহরের সরকারি এসসি বালিকা কেন্দ্রে সমাপনী পরীক্ষা দেবার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। জেলা পরিষদের সড়কমুখে এসে যানজটে পড়েন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি পরে সিএনজি ছেড়ে, পায়ে হেঁটে হাজীপাড়া’র মুখে এসে রিক্সায় ওঠে কোনভাবে সাড়ে ১০ টায় মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসেন। এভাবে অনেক পথচারীকেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর আহমেদ নূর বললেন, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করা ঠিক হয় নি। সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে সারা দেশের যোগোযোগের একমাত্র সড়ক সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক। এই সড়কে কাজ করতে হলে মানুষের দুর্ভোগ যাতে না হয়, চলাচল যাতে বন্ধ হয়ে না যায়, সেটি ভাবতে হবে। বিশেষ করে শহরের স্টেশন রোড থেকে পৌরসভার ভেতরের অর্থাৎ ওয়েজখালী পর্যন্ত সড়কে রাতে কাজ করতে হবে। দুই দিকে ট্রাফিক কন্ট্রোলও রাখতে হবে। না হয় যানজট লাগবে। ভোগান্তি বেড়ে যাবে।’
সুনামগঞ্জের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শামছুল ইসলাম জানালেন, সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে বের হবার একমাত্র সড়কে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের কিছুই জানানো হয় নি, সকালে পুলিশ লাইন থেকে এদিকে আসার সময় দীর্ঘ যানজট দেখতে পাই এবং কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে ওখানে কাজ চলতে দেখি। পরে আমিসহ আমাদের সহকর্মীরা সাড়ে ৩ ঘণ্টা ওখানে অবস্থান করে যানজট মুক্ত করেছি। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করেছি।
সড়ক ও জনপথ’এর ওই কাজের দেখভালকারী উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, লোকবল কম নিয়ে ঠিকাদার এভাবে ওখানে কাজ শুরু করেছেন। তা আমাদের জানায় নি তারা। পরে আমরা গিয়ে কাজ বন্ধ করেছি এবং জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শহরের অংশের কাজ হবে রাত ১২ টার পর। ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে, শ্রমিকও বেশি রাখা হবে। জনগণকে কষ্ট দিয়ে কোন কাজ করা হবে না।