হঠাৎ ধসে গেল শ্রেণিকক্ষের মেঝে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
গেল বছরের বন্যায় বিদ্যালয় ভবনের নিচ থেকে একপাশের মাটি সরে যায়। ফলে তখন থেকেই একটি শ্রেণিকক্ষের পাকা মেঝে হয়ে ওঠে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সেই ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষেই চলে ৩৩ শিক্ষার্থীর পাঠদান। আর পাঠদান চলাকালে ওই শ্রেণিকক্ষের মেঝে হঠাৎ ধসে যায়। এতে করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পায় তারা। রবিবার দুপুরে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বাখরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনটি ঘটে।
ওই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২০০ শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয় ভবনে চারটি কক্ষ রয়েছে। আর মধ্যে একটি অফিস কক্ষ ও তিনটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গেল বছরের বন্যায় বিদ্যালয়ের পশ্চিমপাশের কক্ষের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। ফলে শ্রেণিকক্ষগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিষয়টি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির কক্ষের মেঝেটি ধসে যায়। এখন যে কোনো সময় পঞ্চম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষের মেঝে ধসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারতো জানিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফজ্জল হোসেন বলেন, ‘৫ম শ্রেণির কক্ষের মেঝেও যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। কিছুদিন আগে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে গেলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার পক্ষে এটি সম্ভব না জানিয়ে রাগারাগি করে দরখাস্ত জমা রাখেননি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘মেঝে ধসে যাওয়ার বিষয়টি জানি না। দরখাস্ত রাখবো না কেন? এ ধরনের কোনো দরখাস্ত আমাকে দেওয়া হয়নি।’