- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

হাইব্রিড বীজ কিনে ঠকছেন কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরাঞ্চলের বোরো’র বীজ বপন শুরু হয়েছে। কৃষকরা দেশী জাতের বিআর ২৮, ২৯’ এর চেয়ে বিদেশী হাইব্রিড ধানের বীজ বপনে আগ্রহী বেশি। উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড বীজ কিনে ঠকছেনও কোনো কোনো কৃষক। বীজ কিনে আনার পর চারা না গজানোয় কেবল হা-হুতাশ করছেন তারা। কেউ কেউ দুই দফায় বীজ কিনছেন।
শাল্লা উপজেলার আঙ্গায়ুরা গ্রামের কৃষক নৃপেন্দ্র দাস জানালেন, শাল্লা উপজেলা সদরের উত্তম রায়’এর বীজের দোকান থেকে মেটাল অ্যাগ্রো লি.’এর ১০ কেজি বীজ কিনেছিলেন আমি। যেভাবে বীজ ভেজানোর কথা, সেভাবেই ভিজিয়েছি, ওই বীজে চারা আসে নি। কিছু এসেছিল, পরে সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে।
নৃপেন্দ্র দাস জানালেন, বিষয়টি তিনি শাল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি পিসি দাসকেও জানিয়েছেন।
শাল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি পিসি দাস জানান, অগ্রণী-৭ বীজ কিনে নৃপেন্দ্র দাস প্রতারিত হয়েছেন, এই বীজে চারা হয় নি বলে জানিয়েছেন। আনন্দপুরের বাবুল দাসও জানিয়েছেন, ৩ কেজি অগ্রণী বীজ কিনেছিলেন তিনি, ওই বীজে চারা হয় নি। তিনি জানান, বিষয়টি শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন তারা।
জানতে চাইলে শাল্লা উপজেলা সদরের দোকানী উত্তম রায় বলেন, আমাকে কেউ এই বিষয়ে জানায় নি। বীজে সমস্যা হলে আরও যারা কৃষক অগ্রণী বীজ নিয়েছেন, সমস্যা হলে তারাও জানাতেন।
অগ্রণী বীজের প্যাকেট থাকা ফোন নম্বরে এই বিষয়ে জানার জন্য ফোন দিলে রিসিভ করেন কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক মহিলা। তিনি নাম ছাপা যাবে না জানিয়ে বলেন, বীজে কোন সমস্যা নেই। যে কৃষক বীজ নিয়েছেন, তিনি হয়তোবা সঠিক প্রক্রিয়ায় বীজ ভেজানোসহ অন্য কাজ করেন নি।
এদিকে, হাওরাঞ্চলে ধানের দাম কম থাকায় এক মণ ধান বিক্রি করে দেড় কেজি বীজ কিনতে হচ্ছে কৃষকদের।
শাল্লার আনন্দপুরের কৃষক ললিত মোহন দাস বলেন, হাইব্রিড ধানের বীজ ‘জনকরাজ, হীরা, জাগরণ, অগ্রণী বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা থেকে ৩২০ টাকায়। অথচ. প্রতি মণ ধানের মূল্য ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা।
শাল্লার রামপুর গ্রামের কৃষক কেদার সরকার বলেন, এম মণ ধান বিক্রি করে বীজ কেনা যায় দেড় কেজি। ধানের এমন দরপতন এর আগে কখনো হয় নি।
বিশ^ম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন জানালেন, ওই উপজেলায় বীজ ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত বীজ মওজুদ রয়েছে। চাহিদা মোতাবেক বীজ পেতে কোন সমস্যা হবে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সফর উদ্দিন বলেন, ডিলার বা দোকানী’র কাছ থেকে কোনো কৃষক বীজ কিনে প্রতারিত হলে, ওই বীজের প্যাকেটসহ উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিকট আবেদন করলে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়া হবে।

  • [১]