হাওরপাতারে বাইপাস সড়কের উন্নয়ন হয়নি ৬০ বছরেও

আকরাম উদ্দিন
হাওরপাতারে ফকিরনগর-হালুয়ারগাঁও সহজ যোগাযোগের বাইপাস সড়কের উন্নয়ন হয়নি দীর্ঘ ৬০ বছরেও। এই বাইপাস সড়ক সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত। এই অঞ্চলের লক্ষ মানুষের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম সৃষ্টিতে সড়কের মাটি ভরাটসহ পাকাকরণের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৬০ সালে অদূর ভবিষ্যত এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন চিন্তা করে তৎকালীন মাহমুদ আলী মিনিস্টার স্থানীয়দের দাবি প্রেক্ষিতে এই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তখন ফকিরনগর জামে মসজিদের সামনে যোগাযোগের মেইন সড়ক থেকে দুই হাওরের মাঝপথ পাড়ি দিয়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট যাতায়াতের হালুয়ারগাঁও এলাকার মেইন সড়ক পর্যন্ত মাটি ভরাট করে দেন তিনি। এরপর চলে যায় দীর্ঘদিন। প্রায় ৩০ বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা শ্রীপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আপ্তাব উদ্দিনের উদ্যোগে সামান্য মাটি ভরাট করে সড়কের সংস্কার কাজ করা হয়।
ফকিরনগর গ্রামের মাসুক মিয়া, আলী হোসেন, সালেহ আহমদ, আলী নুর, শ্রীপুর গ্রামের কাহার মিয়া, মনির হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, জমির আলী, জয়নাল আবেদীন, জলিলপুর গ্রামের নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে জানান, এই বাইপাস সড়ক পাকাকরণ হলে লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের হবতপুর, ফকিরনগর, শ্রীপুর, জলিলপুর গ্রামের কিছু অংশের মানুষ, সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের গৌরারং ইউনিয়নের একাংশের এবং ফতেহপুর ইউনিয়নের কৃষকদের কৃষিজাত পণ্য গাড়ি বহন করে হালুয়ারগাঁও-ইসলামপুর বাইপাস সড়ক হয়ে শান্তিগঞ্জ ও বেতগঞ্জ বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়াও সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশের বিভিন্ন হাট-বাজারের বা উপজেলায় সহজে আমদানী-রপ্তানী করা যাবে। হাওরের কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও মাছ অতি সহজে যানবাহন দিয়ে আনা নেওয়া সম্ভব হবে। এতে মানুষের যাতায়াত খরচ কম হবে। মানুষের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
এই বাইপাস সড়কের উত্তরের অংশে রয়েছে উকিলার হাওর এবং দক্ষিণের অংশে রয়েছে পীরাননগর নামের আরও একটি হাওর। এই দুই হাওরের মাঝপথে নির্মাণ করা হয়েছিল দীর্ঘ মাটির সড়ক। সংস্কার কাজ বা পাকাকরণ না হওয়ায় বছরের পর বছর বন্যায় ও ভারি বৃষ্টিতে সাবানের ন্যায় গলে বিলীন হয়ে গেছে। এই কারণে সড়কের একাধিক স্থানে বড় আকারের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।
এই বাইপাস সড়ক নির্মাণ হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বেষ্টিত, নিরব নিস্তদ্ধ পরিবেশ, দুই হাওরের মাছের খেলা ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির শব্দ, শাপলা ফুল, জার্মুনি ও বনফুলের চোখজুড়ানো দৃশ্য, ঠান্ডা শীতল নির্মল বাতাস এবং স্বচ্ছ জলরাশির অবর্ণনীয় সৌন্দর্য অবলোকন করা যাবে। প্রকৃতি প্রেমিদের অবসর সময় কাটানোর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হবে।
ফকিরনগর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি জানান, এই বাইপাস সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় ইকবালনগর হয়ে শহর ঘুরে শান্তিগঞ্জ বা বেতগঞ্জ বাজারে আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে খরচ হয় বেশি। এই বাইপাস সড়ক নির্মাণ হলে অনেকটা কমে আসতো। তাই এই বাইপাস সড়ক নির্মাণ জরুরি প্রয়োজন।
প্রবীণ ব্যক্তি মছব্বির আলী জানান, এই বাইপাস সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। কেউ উদ্যোগ নেননি। প্রকৃতপক্ষে এই সড়ক মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে খুবই প্রয়োজন।
লক্ষণশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, হাওরপাতারে এই বাইপাস সড়ক আমার ইউনিয়নে পড়েছে। মানুষের যাতায়াতের সহজ মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু যুগের পর যুগ সড়কের কোনো কাজ হচ্ছে না। এই সড়কের নির্মাণ কাজ হলে এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।