হাওরাঞ্চলে বেড়েছে বাল্য বিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার
করোনাকালে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় হাওরের গ্রামাঞ্চলে বাল্য বিয়ে বেড়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, নারী সংগঠনের দায়িত্বশীলরা বলছেন, স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় ছেলেদের কাজে লাগিয়ে দিচ্ছেন দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা। অন্যদিকে মেয়েদের বুঝা মনে করছে তারা। এজন্য স্কুল পড়–য়া মেয়েদেরও বিয়ের আয়োজন করছেন কোন কোন অভিভাবক।
সুনামগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী গৌরী ভট্টাচার্য জানালেন, করোনাকালীন সময়ে এপ্রিল মাসের ২ তারিখে দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে একটি, পরদিন ৩রা এপ্রিল সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জলিলপুর গ্রামে আরেকটি, একই গ্রামে জুলাই মাসে একটি এবং গৌরারং ইউনিয়নে আগস্ট মাসে আরেক বাল্য বিয়ে তাৎক্ষণিক ঠেকানো হয়েছে। কিন্তু পরে নানা কৌশলে অভিভাবকরা ঠিকই বিয়ে সেরেছে। করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছেলে শিশুদের দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা কাজে লাগিয়েছেন। মেয়ে শিশুদের বোঝা মনে করে ওদের বিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন কোন কোন অভিভাবক।
তাহিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার বাগলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ চন্দ্র রায় জানালেন, স্কুল বন্ধ থাকায় ছেলে শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগেই আয় রোজগার করার কাজে লাগিয়েছেন অভিভাবকরা। মেয়েদেরকে কোন কোন অভিভাবক কাউকে না জানিয়ে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। তাঁর বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কাউকে না জানিয়ে সম্প্রতি বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন রানা বললেন, তার ইউনিয়নের ৮ম ও নবম শ্রেণি পড়–য়া মেয়েকে বিয়ে দেবার খবর পেয়ে তারা আটকানোর চেষ্টা করেছেন। পরে সকলের অগোচরে শহরে নিয়ে তাদেরকে বিয়ে দেবার খবর পেয়েছেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুননবী বললেন, জেলায় বাল্য বিয়ে বেড়েছে বা কোথাও হয়েছে এমন খবর আমাদের জানা নেই।