হাওরের ক্ষতি হয় এমন প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী-পরিকল্পনা মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব, আগামী প্রজম্মকে রক্ষার জন্যই আগে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। আমরা এমন কোন প্রকল্প গ্রহণ করব না, যেগুলো হাওরের মানুষের জন্য সমস্যা হবে, হিজল খরচ গাছের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওরের ক্ষতি হয় এমন প্রকল্পরে বিরুদ্ধে।
এমএ মান্নান বলেন, মন্ত্রী থাকার কোন লোভ আমার নেই, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কাজ করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। তিনি নিজের জন্য কখনও ভাবেন নি, তিনি শুধু দেশের মানুষের জন্য চিন্তা করেন, হাওর এলাকার মানুষের জীবন যাপনের খোঁজ খবর রাখেন।
মন্ত্রী বলেন, জাপানিরা কাজ করার জন্য তারা খুব পরিশ্রমী, সেই জন্য তারা নতুন নতুন যন্ত্রপাতি করতে পারে, বাঙালিদেরও পরিশ্রমী হতে হবে, পরিশ্রমি জাতি দ্রুত সফলতায় পৌঁছায়।
রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের হালুয়ারগাঁও এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে সুনামগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম.এ মান্নান আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সুশিক্ষিত জাতি চায়। দেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন স্থানে কর্মসংস্থান তৈরি করে দিচ্ছে সরকার। এটা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ সুনামগঞ্জেও তৈরি হয়েছে। এখন প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ও বিদেশে কাজ করতে পারবে মানুষ।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের ভাটি অঞ্চলের মানুষকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই ভালবাসেন। ভালবাসেন বলেই আজ এতোটা প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করেছেন। জেলায় এখন ১২টি উপজেলা হয়েছে। জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। এদের সকলের জীবন জীবিকার দরকার আছে। মানুষের উপার্জন বাড়ানোর জন্য জেলার সকল স্থানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জে বালু-পাথর, মাছ, ধান, হাওর-বাওড়, কবিতা-গান, লেখক-সাহিত্যিক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য সবই আছে। আমাদের সুনামগঞ্জে কি নেই। তাই সকলে মিলে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বলেন, মনে রাখতে হবে সারা বিশ্বকেই মহামারি করোনা বিপর্যস্ত করে দিয়েছে, অনেক বাংলাদেশি প্রবাসে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে। আবার অনেক করোনার কারণে বাংলাদেশে এসে অর্থনেতিকভাবে সমস্যায় পড়েছে। শুধু তারা নয়, আমরাও করোনার কারণে সমস্যায় পড়েছি। চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই সমস্যার সমাধান করে এগুনোর।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিতে হবে। চাওয়া, পাওয়া আর ব্যবস্থাপনা সব কিছু ঠিক রেখে
বাংলাদেশেকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিতে হবে। প্রত্যেক উপজেলা থেকে এক হাজার করে মানুষ পাঠানো হবে বিদেশে। প্রতিষ্ঠানটি এখানকার মানুষের কল্যাণ বয়ে আনবে।
অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জেলা প্রশাসক মো.জাহাঙ্গীর হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিএমইটি’র এনডিসি মহাপরিচালক, (অতিরিক্ত সচিব) মো. শহীদুল আলম, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মনিরুছ সালেহীন। উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রব।