হাওরে অভয়াশ্রম করলে মাছের উৎপাদন বাড়বে ৩ থেকে ৫ গুণ

স্টাফ রিপোর্টার
হাওরের নির্দিষ্ট এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। দেখার হাওরে আমরা একটা গবেষণা করেছি। সেখানের বিল ও বাজার থেকে ৫৪টি জাতের মাছের নমুনা সংগ্রহ করেছিলাম। হাওরের কিছু এলাকাকে অভয়াশ্রম করে দেখলাম মাত্র ৩ বছরে আরও ৮টি প্রজাতির মাছ বেড়ে গেছে। পরবর্তীতে ৬২টি প্রজাতির মাছ আমরা হাওরে পেলাম। এতে বোঝা যায় হাওরের সম্ভবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এই গবেষণার মাধ্যমে সরকারকে আমরা প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম— দেশের ৬ হাজার ৩০০ বিলের শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ অভয়াশ্রম হিসেবে করতে পারি তাহলে হাওরে মাছের উৎপাদন ৩ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যাবে। এছাড়াও নষ্ট হয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। কিন্তু এই প্রস্তাবনার কার্যক্রম আমরা দেখিনি।
হাওরের জীববৈচিত্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে সমাধান কোন পথে শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম।
শনিবার বিকালে হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে তাহিরপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফি এন্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, প্রতিবছর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ, রাস্তা নির্মাণের জন্য হাওরের ক্ষতি হচ্ছে। হাওর এলাকার উন্নয়ন কোনো ব্যক্তির একার করা সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্রকে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষকদের এগিয়ে আসতে হবে। সব বিভাগের কার্যকরী উদ্যোগই হাওরের জীববৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন সম্ভব।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ খাঁন, হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম, হাওর, আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাসেল, সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য সেলিনা আবেদীন প্রমুখ।