হাওরে পানি আসায় ধানের বাজার চাঙা

বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরে পানি আসায় চাঙা ধানের বাজার। গত ৩ দিনে ধানের দামও বেড়েছে মণে ১০-১৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা বললেন, লাগাতার বৃষ্টি চলছে, বৃষ্টি থামলে ধানের বাজার আরও বেশি চাঙা হয়ে ওঠবে। ব্যবসায়ীরা বললেন, করোনার কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই ধানের বাজারে।
সুনামগঞ্জে এবার তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন হয়েছে ১৫ লাখ টনেরও বেশি। বিপূল পরিমাণ এই ধান ক্রয় বিক্রয়ের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানেই ধানের আড়ৎ গড়ে উঠেছে। একইসঙ্গে ধানের ব্যাপারীদের বড় বড় নৌকাও যাচ্ছে কৃষকের ঘাটে। ভাটি অঞ্চলের বড় বড় কৃষকরা বাড়ি থেকেই ধান বিক্রি শুরু করেছেন।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী জানালেন, পানি বাড়ায় গত ৩ দিন অসংখ্য বড় বড় ধানের নৌকা নিয়ে ব্যাপারিরা গ্রামের ঘাটে ঘাটে যাচ্ছে ধান কেনার জন্য। কোন পরিবহন খরচ ছাড়াই ধান বিক্রি শুরু করেছেন কৃষকরা। শাল্লায় গত ৩ দিন ধরে ২৮ জাতের চিকন ধান বাড়ি থেকে মিটারে মেপে কৃষকরা বিক্রি করছেন ১১ শ’ থেকে ১১২০ টাকা মণে। মোঠা ধান বিক্রয় হচ্ছে ৯৫০ থেকে ৯৬০ টাকা মণে।
শাল্লার বড় কৃষক আব্দুস ছাত্তার বললেন, পানি বাড়ায় নিজের বাড়ি থেকেই ব্যাপারি’র কাছে কৃষকরা ধান বিক্রি শুরু করেছেন। ধানের দামও মণে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।
জামালগঞ্জের সাচনা বাজারের ধানের আড়ৎদার রইছ উদ্দিন বললেন, গেল ৩ দিনে ধানের বাজার কিছুটা চাঙা হয়েছে। পানি বাড়ায় কৃষকরা ধান নিয়ে আসতে সুবিধা বেড়েছে। বৃষ্টি থামলে কেনা বেছা আরও বাড়বে।
ভাটি অঞ্চলের ধানের সবচেয়ে বড় আড়ৎ মধ্যনগরের আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোপেশ সরকার বললেন, করোনার প্রভাব নেই ধানের আড়তে। আবহওয়া খারাপ না থাকলে এখন যেভাবে পানি বাড়ছে প্রতিদিন ৪০-৫০ হাজার মণ ধানের কেনা বেছা হবে মধ্যনগরের আড়তে। তিনি এখানকার ছোট বড় ৪০ জন আড়ৎদার গেল তিন দিন ধান কিনেছেন বলে জানান।
গোপেশ সরকার জানান, তিনদিন আগে ২৯ জাতের ধান কিনেছেন তারা ১০৭৫ থেকে ১০৮০ টাকা, ২৮ জাতের ধান কিনেছেন ১১১৫ থেকে ১১২০ টাকা মণে। তিনদিন হয় আশুগঞ্জ, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ এবং সিলেটের আড়তে দাম বাড়ায় তারাও কিনছেন প্রতিমণ ধান ১০-১৫ টাকা বেশি দিয়ে কিনছেন।
মধ্যনগর ধানের আড়তের সভাপতি জহিরুল ইসলাম বললেন, পানি বাড়ায় তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগরের বিভিন্ন এলাকাসহ নেত্রকোণার কলমাকান্দা-বারহাট্টা থেকে ধান আসছে মধ্যনগরের আড়তে। তিন দিন আগেও আড়তে ধানের আমদানী কম সকল আড়ৎদার মিলে দিনে ১০-১২ হাজার মণ ধান কিনেছেন। গেল তিনদিনে নৌকা চলাচলের সুবিধা বাড়ায়, ধানের আমদানী বেড়েছে দিনে ২০-২৫ হাজার মণ ধান কেনা বেছা হচ্ছে এখন।