হাওরে প্রি-ওয়ার্ক জড়িপ কাজ শুরু/ পুটিচুরা বাঁধ বাপাউবো’র অধীনে রাখার দাবি

আমিনুল ইসলাম,তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) আওতাধীন হাওরগুলোর ফসল রক্ষা নির্মাণে প্রি—ওয়ার্ক জড়িপ কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান বোর ফসলি ধানের হাওরগুলো পড়েছে তাহিরপুর উপজেলায়। এ উপজেলার হাওরগুলো হচ্ছে— শনির, মাটিয়ান, মাটিয়ান বর্ধিতাংশ, মহালিয়া ও গুরমা বর্ধিতাংশ হাওর। বৃহৎ এ ৫টি হাওরসহ ছোট বড় ২৩টি হাওর রয়েছে তাহিরপুর উপজেলায়। এর মধ্যে উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর হাওর হচ্ছে শনির হাওর। তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর ও জামালগঞ্জসহ ৩ উপজেলা নিয়ে শনির হাওরে রয়েছে ২৪ হাজার হেক্টর বোর ফসলী জমি। এর মধ্যে ৯০ ভাগ জমি পড়েছে তাহিরপুর উপজেলার কৃষকদের। প্রতি বছর আগাম বন্যার হাত থেকে হাওরের ফসল রক্ষায় বাপাউবো’র প্রকল্পের নিয়োজিত লোকদের পাশাপাশি শনির হাওরপাড়ের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা হাওরে অকাল বন্যা দেখা দিলে তারা উড়া কোদাল নিয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে স্বেচ্ছাশ্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শনির হাওরের পটিচুড়া বেরী বাঁধটি নির্মাণে তাহিরপুর উপজেলার অধীনে দেয়ার জন্য এলাকার কৃষকদের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ বরাবরে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ শনির হাওরের পুটিচুরা বাঁধ এলাকার জমি হচ্ছে তাহিরপুর উপজেলার কৃষকদের কিন্তু বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটির স্থান হচ্ছে তাহিরপুর উপজেলায়। যে কারণে আগাম বন্যায় দুর্যোগের সময় জামালগঞ্জ উজেলার কৃষকরা এগিয়ে আসেন না।
গত বুধবার থেকে শনির, মাটিয়ান ও মহালিয়া হাওরের প্রি—ওয়ার্ক জড়িপ কাজ হাওরে শুরু হয়েছে। প্রি—ওয়ার্ক জড়িপ কাজ সরজমিন পরিদর্শন করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুপ্রভাত চাকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি)মো. আসাদুজ্জামান রনি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শওকত উজ জামান প্রমুখ।
শনির হাওর পাড়ের উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বলেন, শনির হাওরের পুটিচুরা বাঁধসহ হাওরের সমুদয় ফসল আমাদের। অকাল বন্যার সময়ও ফসল রক্ষায় স্বেচ্ছশ্রমে তাহিরপুর উপজেলার লোকজন গিয়ে বাঁধে কাজ করে। কিন্তু প্রতি বছর বাঁধটি নির্মাণ কাজ করে বাপাউবো জামালগঞ্জ উপজেলা। শনির হাওরের কৃষকদের স্বার্থে পুটিচুরা বাঁধটি বাপাউবো তাহিরপুর উপজেলায় হস্তান্তরের জন্য সুনামগঞ্জ বাপাউবো’র প্রতি তিনি দাবি জানান।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কৃষক ও শনির হাওর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, হাওরে যার জমি আছে তারা হাওরের বাঁধ নির্মাণ করবে। যাদের হাওরে জমি নেই তাদের হাওরের দরদ থাকবে কি করে। তিনি উদাহরণ স্বরুপ আরো বলেন, পুটিচুরা বাঁধ এলাকার জমি যেহেতু তাহিরপুর উপজেলার কৃষকদের বাঁধ নির্মাণের কাজটিও বাপাউবো তাহিরপুর উপজেলার আওতায় রেখেই নির্মাণ কাজ করা উি”ৎ। ২০১৭ সালে যখন জেলার সবগুলো হাওরের ফসল তলিয়ে গিয়েছিল তখন থেকেই আমরা এ দাবি জানিয়ে আসছি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুপ্রভাত চাকমা জানান, শনির হাওরের পুটিচুরা বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ড তাহিরপুর এর অধীনে দেয়ার জন্য তিনি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলবেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সুনামগঞ্জে নতুন যোগদান করেছেন বলে তিনি জানান, শনির হাওরের পুটিচুরা বাঁধ এলাকার বোর ফসল যেহেতু তাহিরপুর উপজেলার কৃষকদের এ লক্ষ্যে তিনি বাঁধ নির্মাণ কাজের বিষয়টি বাপাউবো তাহিরপুর উপজেলার অধীনে রাখার জন্য তিনি চেষ্টা করবেন।