‘হাওর ডুবলে দায়িত্বশীলদের পালাতে হবে’

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের অগ্রগতি কম। ক্লোজার (ভাঙন) বন্ধ না করলে বিপদে পড়তে হবে। সীমান্তের ওপারে চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হলে হাওর ডুবে যাবে। মঙ্গলবার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় দায়িত্বশীরা এমন মন্তব্য করেন। এসময় বাঁধের ভেতরে বাঁধ করে এবার টাকার অপচয় না করার জন্যও সতর্ক করে দেওয়া হয়। সভায় বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জে হাওরে বাঁধ নির্মাণে গঠিত জেলা কমিটির এই সভা মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় কাজের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার। সভায় বাঁধের কাজের নানা বিষয় নিয়ে আরও বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদি-উর রহমান জাদিদ, হাওর বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান প্রমুখ।
সভায় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, এবার সুনামগঞ্জের ৪৮টি হাওরে বাঁধের কাজ হবে। ইতিমধ্যে ৯১৩ টি প্রকল্প প্রস্তুত হয়েছে। এরমধ্যে জেলা কমিটি থেকে ৫৮০ টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে ১৮৫ টিতে।
সভায় বক্তব্য দেবার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম বলেন, হাওরের বাঁধের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। ক্লোজার (ভাঙন) বন্ধ না করলে চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হলে হাওর ডুববে। বাঁধের ভেতরে এবার বাঁধ দিয়ে টাকার অপচয়ের সুযোগ নেই। কমপেকশন ও স্লোফ ঠিক করে করতে হবে। বাঁধের পাশের ডোবা ভরাট করতে হবে। এ বছর নির্বাচনের বছর, হাওরে সমস্যা হলে সরকারসহ আমরা সকলেই বিপদে পড়বো। হাওর ডুবলে চালের দাম বেড়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, উপজেলা কমিটি থেকে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়ে তাগিদ দেওয়া হয় অনুমোদনের জন্য। যেগুলো অনুমোদন হয়েছে, সেগুলোতে কাজ শুরু হলো না কেন, সেটিও জানতে চান তিনি। জেলা প্রশাসক দিরাইয়ের চাপতির হাওরের কম্পার্টমেন্টাল বাঁধ, চন্দ্র সোনার তাল ও পাগনার হাওরের কম্পার্টমেন্টাল বাঁধের অনুমোদন হবে বলে জানান।
বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বিগত বছরে যেসব বাঁধ ভেঙেছিল, সেগুলোর স্লোফ ঠিক ছিল না। বাঁধের পাশ থেকে মাটি তোলা হয়েছিল। বাঁধের স্লোফ কি হবে, কমপেকশন হচ্ছে কী না, ঘাস লাগানো হলো কি না, এসব বিষয় দেখা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাজ। এ বিষয়ে কারো অবহেলা থাকলে সরকারকে জানানো হবে। কারো গাফিলতি, দায়িত্বহীনতা বরদাস্ত করা হবে না। মনে রাখতে হবে, কারো অবহেলায় হাওর ডুবলে বা বাঁধ ভাঙলে দায়িত্বশীলদের পালিয়ে যেতে হবে।