হাজিরা খাতায় ছয় মাসের স্বাক্ষর একদিনে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
তিনি মাসের পর মাস কলেজে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করতে পারেন না। তবে মাঝে মধ্যে কলেজে এসে একসাথে হাজিরা খাতায় যিনি কয়েক মাসের স্বাক্ষর করেন তিনি ধর্মপাশা সরকারি কলেজের দর্শন বিষয়ের প্রভাষক আফরোজ মাহবুব খান। গত ছয় মাস ধরে হাজিরা খাতায় ওই প্রভাষকের স্বাক্ষর নেই- হাজিরা খাতার এমন ছবি তুলে সরবরাহ করেছেন কলেজের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তবে আফরোজ মাহবুবা খান দাবি করেছেন তিনি কলেজ সরকারিকরণের কাজে ঢাকায় অবস্থান করার কারণে অনুপস্থিত থাকেন। আর তিনি ছাড়াও এ কলেজের কয়েকজন শিক্ষক এমনটি করে থাকেন।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ধর্মপাশা সরকারি কলেজ গত ২০১৬ সালের জাতীয়করণ ও ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট চূড়ান্ত গেজেট হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর কলেজের ৩৯ জন শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে ৩০ জনের অস্থায়ী নিয়োগ হয়। আর কলেজের কিছু শিক্ষকের মধ্যে কলেজে না এসেও পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। যা কলেজের অধ্যক্ষ স্বীকার করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত (জুন মাসের তথ্য পাওয়া যায়নি) দর্শন বিষয়ের প্রভাষক আফরোজ মাহবুব খান কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু তিনি চলতি মাসের শুরুতে কলেজে এসে একসাথে হাজিরা খাতায় ছয় মাসের স্বাক্ষর করেছেন। আর ওই হাজিরা খাতার ছবি সংরক্ষণ করেছেন কলেজের দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি।
আফরোজ মাহবুব খান বলেন, ‘এটাতো আমি একা করিনা। প্রত্যেকটা টিচার মাসে ১০ থেকে ১৫ দিন আসে না। এভাবে মৌখিক ছুটি নিয়ে পরে এসে তারা স্বাক্ষর করে। এভাবে স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি আমার অথ্যোরিটি দেখবে। আমি ডিজি ও শিক্ষা সচিবের সামনে বসে কলেজ সরকারিকরণের কাজ করেছি। তারা আমাকে দেখেছেন। অন্য শিক্ষকেরা এমনটি করতে পারলে আমি করলে অসুবিধা কোথায়? কলেজে অনেক শিক্ষকেরই চাকরিতে সমস্যা রয়েছে। টাকা দিয়ে তারা তাদের সরকারিকরণ করেছে। যার ডকুমেন্টস আমার কাছে রয়েছে। এখন সে বিষয়টিও সামনে আসবে। এ ব্যাপারে পত্রিকায় প্রতিবেদন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাদের সাথে কাজ করেছি তারা আমাকে বলেছে যারা এভাবে কলেজের জন্য কাজ করেছে তাদের কাগজে কলমে ছুটি নিতে হবে না।’
অধ্যক্ষ আব্দুল করিম বলেন ‘স্টাফ মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে (আফরোজ) মৌখিকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আমিতো নামে মাত্র আছি। যারা তাকে (আফরোজ) পাঠিয়েছে তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন হয়তো কোনো বিষয়ে তাদের মধ্যে সমস্যা হয়েছে। কলেজে অনেক শিক্ষকের সার্টিফিকেটের সমস্যাসহ আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না দেখালে ওই শিক্ষকের বিল হবে না। আর তাকে (আফরোজ) একাধারে ঢাকায় দেখানো যাবে না। যে সকল শিক্ষক ময়মনসিংহ থাকেন তারা কয়দিন কলেজে আসেন? স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষকের কারণে এমনটি হচ্ছে।’