হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
এক সময় ছিল মানুষের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা আর জারীগান। উচ্চ শব্দে চলা ভানায় সংলাপ উচ্চারন, বেনু বীনা বালা, শানাইয়ের করুন সুরে ভরে উঠত চার পাশের পরিবেশ। আলো ঝলমলে মঞ্চে গল্পগুলোর কাহিনী দেখে মনের অজান্তেই চোখ জলে ভরে উঠত।
জানা যায়, দুর্গাপূজা এলেই সাচনা বাজার ও সাচনা চৌধুরী বাড়িতে শুরু হয়ে যেত যাত্রাপালার রিহার্সেল। পূজায় যাত্রাপালা হবে সেই প্রতীক্ষায় থাকতো এলাকার লোকজন। ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ময়মনসিংহ নেত্রকোনা থেকে আসত অভিনেত্রী ও বাদ্য যন্ত্রের দল। রিহার্সেল শেষে পূজার ৪ দিন হতো সাচনা বাজার এবং সাচনা চৌধুরী বাড়ির যাত্রা নাটক। কার চেয়ে কে ভালো অভিনয় জৌলুস দেখাবে সেই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকতেন যাত্রাশিল্পীরা। সারাদিনের পরিশ্রমের পর রাতে হাজার হাজার দর্শক আসতো যাত্রাপালা দেখতে।
লোকসংস্কৃতি ও রূপকথার গল্পগুলোকে তুলে ধরার পাশাপাশী যে কোন সংকটেই বাঙালির পাশে ছিল যাত্রাশিল্প ও যাত্রাশিল্পীরা। কিন্তু বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি যাত্রাশিল্প বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কালের বিবর্তনে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্প। যাত্রা শিল্পের এখন দুর্দিন। সারাদেশে যাত্রাপালার অনুমোদন অঘোষিত ভাবে বন্ধ। যাত্রার কথা শুনলেই এখন প্রশাসন অনুমতি দিতে চায় না। যাত্রাপালায় এখন চলে অসাধু যাত্রাপালা ব্যবসায়ীদের জুয়া ও অশ্লীল নাচ। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে যাত্রা দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নব্বই দশকে যাত্রাশিল্পে প্রিন্সেসদের দাপট চলে। এরপর থেকে যাত্রার উপর শুরু হয় নিষেধাজ্ঞা। এছাড়াও রাতে মানুষ যাত্রা দেখতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
এ বিষয়ে সুনাপ অপেরার সভাপতি জন্টু ভূষন সরকার জানান, যাত্রা শিল্পের অবক্ষয় এবং বিলুপ্তির পথে ধাবিত হওয়ার মূল কারণ অসাধু যাত্রাপালা ব্যবসায়ীদের প্রিন্সেস আমদানী আর জুয়া খেলা।
তিনি বলেন, এগুলো আগে যাত্রা দলে ছিল না। যাত্রা পালায় অশ্লীলতা ঢুকে পড়ায় সাধারণ দর্শকরা যাত্রাপালা থেকে বিমুখ হচ্ছে। তবে সুস্থ যাত্রাপালা ধরে রাখতে সুনামগঞ্জে সুনাম অপেরা নামের সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।