হেফাজতের নেতা শাহীনুর পাশা চৌধুরী গ্রেপ্তার

সু.খবর ডেস্ক
হেফাজত ইসলামের সদ্যবিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তা-বের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিসানুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের জড়িত থাকার অভিযোগে হেফাজতের এই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে তোলা হবে।
এরআগে শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে সিলেট নগরীর বনকলাপাড়া থেকে হেফাজত নেতা শাহীনুরকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার সিআইডির একটি দল। সিলেটের বিমানবন্দর থানার ওসি খান মোহাম্মদ ময়নুল জাকির জানান, রাতেই তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
শাহীনুরের গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে সিলেট থেকে প্রথম কোনও হেফাজত নেতা গ্রেপ্তার হলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর তার আসনে উপ-নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাহীনুর।
এছাড়াও সম্প্রতি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাও গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হওয়া হামলার ঘটনায় সিলেটের বনকলাপাড়া থেকে গ্রেপ্তার হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শাহিনুর পাশার মদদ ও উস্কানি ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
একই সাথে শাহিনুর পাশার লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল দাবি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রেখে দেশে সরকারবিরোধী অনেক অপতৎপরতা চালান শাহিনুর পাশা।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্র জানায়, সম্প্রতি সারাদেশে ঘটে যাওয়া হেফাজতে ইসলামের সহিংস আন্দোলনে সরাসরি নির্দেশ দাতাদের মধ্যে অন্যতম শাহিনুর পাশা। লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানসহ সরকারবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে দেশের অভ্যন্তরে অপতৎপরতা চালিয়ে থাকেন তিনি। এছাড়া তারেক রহমানসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন পক্ষের নির্দেশে দেশে অরাজকতা ও নাশকতামূলক আন্দোলন বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন এই হেফাজত নেতা।
আরও জানা যায়, সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘু গ্রামে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনায় তার মদদ ও উস্কানির প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। এছাড়া হেফাজতসহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী গোষ্ঠীকে আইনি সহায়তা দিয়ে তাদের আবারও সহিংস আন্দোলনের জন্য মাঠে নামানোরও কাজ করে যেতেন হেফাজতের এই নেতা।
শাহীনুর পাশা চৌধুরী হেফাজতে ইসলামের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। বনকলাপাড়ার আব্বাসী জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আবদুল মুকিত বলেছেন, শাহীনুর পাশার বাসা বনকলাপাড়া এলাকার ৫১ গলিতে। বৃহস্পতিবার রাতে শাহীনুর পাশাকে কিছু লোক আটক করে নিয়ে যান।
জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ শাহীনুর পাশা চৌধুরীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
তবে সিলেট নগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালে সহিংসতা চালানোসহ একাধিক মামলা রয়েছে শাহীনুর পাশার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও তা-বের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের নেতাদের গ্রেপ্তারের মধ্যে শাহীনূর পাশা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হলো। তবে ঠিক কোনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানা যায়নি। ঢাকার ডিবি পুলিশের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে রাতেই ঢাকার পথে রওনা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলের শেষ দিকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর জোটের প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন শাহীনুর পাশা।
এ বিষয়ে সিআইডির সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) জিসানুল হক জিসান বলেন, বৃহস্পতিবার (৬ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিআইডির একটি টিম সিলেট থেকে শাহিনুর পাশাকে গ্রেপ্তার করেছে। সম্প্রতি হেফাজতের সহিংস আন্দোলনের বিরুদ্ধে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে আজ (শুক্রবার) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে বিচারকের সামনে হাজির করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে অপতৎপরতাসহ সরকারবিরোধী কর্মকা-ে তিনি জড়িত আছেন বলে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগকে সিআইডি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখছে।