১০ বছরেও মেলেনি শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি দেয়ার ১০ বছর পরও মিলছে না শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়ক। তাহিরপুরে প্রথম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত দু’টি বিদ্যালয় রয়েছে। একটির নাম ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,অপরটির নাম সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে এ দু’টি বিদ্যালয়ের অবস্থান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতিতে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে বিদ্যালয় দুটিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। অষ্টম শ্রেণি পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসে বইয়ের চাহিদা, বাৎসরিক শুমারী তথ্য, অনলাইন ইউনিক আইডি দিতে হয়। প্রাথমিকে উপবৃত্তি তথ্য, শিক্ষার্থী তথ্য দিতে হয়। মাধ্যমিকের সিডিউল অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ৬ষ্ঠ হতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ২৩০ জন। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৬২৭ জন।
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলোর নামকরণ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা। কেউ বলেছেন, বিদ্যালয়ের নাম সরকারি প্রাথমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সরকারি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে পারে।
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এ দুটি বিদ্যালয় মঞ্জুরীকৃত হলেও শিক্ষক রয়েছেন প্রাথমিক পর্যায়ে মঞ্জুরীকৃত। অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারী না থাকায় সকল কাজকর্ম শিক্ষকগণকেই করতে হয়।
ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ সংখ্যা রয়েছে ১০ জন। কর্মরত রয়েছেন ৯ জন। অফিস সহকারী না থাকায় দু’জন শিক্ষককে অফিসিয়াল কাজে থাকতে হয়। তাছাড়া প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০টি শাখা, ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম পর্যন্ত ৩টি শাখা ও প্রাক প্রাথমিকের একটি শাখা সহ মোট ১৪টি শাখা রয়েছে। ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনসেড ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ওখানেই পাঠদান নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
অপরদিকে সোহালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ৭৬৫ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৯জন। প্রাক প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শাখা রয়েছে ১৩টি।
সোহালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সরোয়ার লিটন বলেন, বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকটে তিনি পঞ্চম শ্রেণির শাখা খুলতে পারছেন না।
ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মন্টু সরকার বলেন, শ্রেণি কক্ষের অভাবে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান নিতে সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া অফিস সহকারী ও অফিস সহায়ক না থা থাকায় সকল কাজকর্ম শিক্ষকদেরই করতে হয়।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ ছায়াদুল কিবরিয়া বলেন, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নামকরণের বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অজয় কুমার দে বলেন, ২০১৩ সালে সরকার যে সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই এমন বিবেচনায় উপজেলার দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্ঠম শ্রেণি খোলার অনুমতি দেয়া হয়। সে লক্ষ্যে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একই সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণি খোলার অনুমতি দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অষ্ঠম শ্রেনী অনুমতি দেয়ার ১০ বছর পরও মিলছে না শিক্ষক,অফিস সহকারী ও অফিস সহায়ক।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন। বিদ্যালয় দু’টিতে কোন অফিস সহকারী ও অফিস সহায়ক নেই। বিদ্যালয় দু’টিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু চালু থাকলেও শিক্ষক রয়েছে উপজেলার অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো। শিক্ষকরা আলাদা কোন ভাতা পাচ্ছেন না, তাছাড়া ছাত্রদের নিকট থেকে শিক্ষকরা কোন বেতন আদায় করতে পারছেন না। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে তিনি জানান।