‘১২ বছরে ১০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বললেন, যমুনা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর যখন বিএনপি উদ্বোধন হয়, তখন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সারাদেশে হরতাল ডেকেছিলেন। কিন্তু পদ্মাসেতু নির্মাণের বিরুদ্ধে কোন হরতাল কোন বিবৃতি দেয়নি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো। শুধু তাই নয়, পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন করে সকল দুর্নীতি, অপর্কম ডাকার চেষ্টা করছে সরকার। রোববার দুপুরে শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার মানুষকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শেষে তিনি এই সব কথা বলেন।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, জনগণ যেখানে ভোট দিতে পারে না, যেখানে দিনের ভোট রাতে হয় সেখানে নির্বাচন নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন যদি ফেরাশতাও হয় এবং নির্বাচন কমিশনের ৫ জন যদি বিএনপি পন্থীও হয় তারপরও মানুষ নিজের ভোট দিতে পারবে কি না সেটা নিয়েও সন্দিহান আমরা। এই সরকারের অধিনে নয়, এই নির্বাচন কমিশনের অধিনেও নয়, নিরপেক্ষ সরকারে অধিনে নির্বাচন যেদিন হবে, সেদিন বিএনপি নির্বাচনে যাবে এবং সেই নির্বাচন আদায় করার জন্য বিএনপি আন্দোলন করছে। তিনি বলেন, গত ১২ বছরে ১০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। সেখানে আপনাকে বুঝতে হবে লুটপাটের ও দুর্নীতির অঙ্কটা কোন পর্যায়ে আছে।
পদ্মাসেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাইকার প্রস্তাবে পদ্ধাসেতুর বাজেট ছিল ১১ হাজার কোটি টাকা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলছিলেন ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে পদ্মাসেতুর কাজটা সম্পূর্ণ করতে হবে। এখন ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে পদ্মাসেতুর খরচটা হিসাব করেন। সুতরাং পদ্মাসেতুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ নয়, পদ্মাসেতু নির্মাণে যে দুর্নীতি হয়েছে তার বিরুদ্ধে দেশের মানুষ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব অ্যাড. নিপুন রায়, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাড. তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল প্রমুখ।