১৫ আগষ্টে দিনব্যাপি দুই গ্রুপের আলাদা কর্মসূচী

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বিভক্তি চাঙা হচ্ছে। জাতির জনকের শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচিও বিবদামান দুই গ্রুপ আলাদাভাবে পালন করেছে। দুই গ্রুপই জাতিরজনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পৃথক আলোচনা সভা করেছেন। পৃথক কর্মসূচির জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছেন দুই গ্রুপের নেতারা।
জাতির জনকের শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচি বিবদমান দুই গ্রুপ আলাদাভাবে করায় দলের তৃণমূলের নেতা কর্মীরা বেকায়দায় পড়েছিলেন। কেউ কেউ দুই গ্রুপের কর্মসূচিতেও যোগদান করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সকালে শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে আলাদা আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতীতে শ্রদ্মা নিবেদন করেন সংগঠনের দুই গ্রুপের নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় একাংশের নেতৃত্ব দেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, অপরাংশের নেতৃত্ব দেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর দাস ও জুনেদ আহমদ। পরে বিকালে ও রাতে দুই গ্রুপই ভার্চুয়ালি পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটের সভাপতিত্বে জেলা কমিটির উদ্যোগে আলোচনাসভা উল্লেখ করে বিকাল ৪ টায় আলোচনা সভা হয়। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসের যুক্ত হন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলের সঞ্চালনায় এই অংশের আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবনী মোহন দাস ও আবুল কাশেম, দিরাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী, সংগঠনের জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, সংগঠনের জেলা কমিটির দায়িত্বশীল নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল করিম, আবুল কালাম, আসাদুজ্জামান সেন্টু, জাহাঙ্গীর চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আজাদুল ইসলাম রতন, মাহতাবুর রহমান সবুজ, আবুল হোসেন খাঁন, অমল কর, শামীম আহমদ বিলকিস, নিগার সুলতানা কেয়া, অমল চৌধুরী হাবুল, কল্লোল তালুকদার চপল, শামীম চৌধুরী, ফরিদ আহমদ তারেক, সিতেশ তালুকদার মঞ্জু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকার কান্তি দে প্রমুখ।
অন্যদিকে, সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও ভার্চুয়ালি আয়োজনে সভাপতি উল্লেখ করা হয় তাঁকে। জেলা কমিটির এই আয়োজনের সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জল। এই আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ আজাদ ডন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, ড. জয়া সেন গুপ্তা এমপি, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, অ্যাডভোকেট শামীমা আক্তার খানম এমপি। এছাড়াও জেলা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নান্টু রায় ও অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, দলের জেলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডা. আবুল কালাম, সুবীর তালুকদার বাপ্টু, দেওয়ান ইমদাদ রেজা, ইশতিয়াক শামীম, মোবারক হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল আজাদ রুমান, শাহ্ আবু নাসের, নিগার সুলতানা কেয়া, গোলাম সাবেরীন সাবু, মোতাহের হোসেন আখঞ্জি শামীম, নিজাম উদ্দিন, তারিখ হাসান দাউদ, আতিকুল ইসলাম আতিক, হুমায়ুন রশিদ লাভলু, এবি এম ফজলুল করিম, পরিতোষ সরকার, ফজলুর রহমান, ইদ্রিছ আলী বীর প্রতীক, মলয় চক্রবর্তী রাজু প্রমুখ এই অংশের আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।
দুইপক্ষের আলোচনা সভায়ই যোগদানকারী জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নিগার সুলতানা কেয়া বললেন, এধরণের আয়োজনে বিপদে পড়তে হয় নেতা কর্মীদের। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর আয়োজন একসঙ্গে করা গেলে ভালো হতো।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য যে আয়োজনে ছিলেন সেটিই সংগঠনের আয়োজন বলতে হবে। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে আলাদা আয়োজন যারা করেন, তারা সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি হোক চান না। এ ধরণের আয়োজন যারা করেন তাদেরকে সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকজ করার দাবিও করেছেন তৃণমূলের নেতারা।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট বললেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশের বাইরে আছেন। তিনি যতদিন দেশের বাইরে থাকবেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, সিনিয়র সহসভাপতি হিসাবে আমাকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে। আমি যেহেতু আগে থেকে কর্মসূচি দিয়েছি, জাতির জনকের শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে সাধারণ সম্পাদক আলাদা কর্মসূচি না দিলেও পারতেন। সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান না বলেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে তারা।