১৫ আগস্টের খল নায়কেরা

মনোরঞ্জন তালুকদার
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক দিন। নিষ্ঠুরতম বীভৎসতার এক নতুন ইতিহাস রচিত হয় এদিন। অমানবিকতা, বিশ্বাসঘাতকতা আর নিষ্ঠুরতার এক অমর ট্রাজেডি এই দিনে রচনা করে সেদিনের খল নায়কেরা। ইতিহাসে নানা পর্যায়ে, নানা দেশে, নানাভাবে রাষ্ট্র প্রধানরা নিহত হয়েছেন বা তাদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের যে ভাবে বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে ইতিহাসে তা বিরল। সন্তান সম্ভবা বধূ, নবপরিণীতা স্ত্রী, আট বছরের শিশু সন্তান থেকে শুরু করে নারী, পুরুষ নির্বিশেষে দেশে অবস্থানকারী তাঁর সমস্ত উত্তারাধিকারীকে হত্যা করা হয়।
একদিকে হত্যাকারীরা হত্যা করেছে অন্যদিকে হত্যাকারীর সহযোগীরা হত্যাকারীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের ইনডেমনিটি দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। বিভিন্ন দূতাবাস সহ নানা জায়গায় তাদের চাকুরী দেয়া হয়েছে। এমনকি রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে অঘোষিতভাবে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমসহ নানা ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আজকের এই লিখায় আমরা খোঁজা ও বোঝার চেষ্টা করব এই ঘটনা কারা ঘটিয়েছিল এবং কেন ঘটিয়েছিল। যদিও এই বিষয়ের উপর প্রচুর বই বিভিন্ন পেশার জ্ঞানী গুণীজন লিখেছেন এবং অনাগত সময়ে আরো লিখা হবে তবুও আমি নিত্যনতুন যে তথ্য নানা জনের লিখা থেকে পাচ্ছি এবং যার আলোকে আমার নিজের ধারণা দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে তাই শুধু পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে চাচ্ছি। প্রায়শই বলা হয় যে, সেনাবাহিনীর বিপথগামী ও সেনাবাহিনী হতে বহিস্কৃত কিছু উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্য এই নিষ্ঠুরতম হত্যাকা-টি ঘটিয়েছে। আমি এই ধারণার সাথে মোটেই একমত নই। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে হবে বেশ কয়েকটা স্তরে।
প্রথমত : এই হত্যাকারীদের আমরা ৩টি স্তরে ভাগ করতে পারি।
১. সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণকারী ২. ষড়যন্ত্রকারী ৩. বেনিফিশারী বা সুবিধাভোগী। সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের আমরা আবার ২টি ভাগে ভাগ করতে পারি।
ক. যারা জেনেশুনেই হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিল।
খ. যারা হত্যা করা হবে এটা জানতো না, তারা জানতো বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করা হবে।
২. ষড়যন্ত্রকারীরা আবার ২টি ভাগে বিভক্ত। ক. জাতীয় পর্যায়ে ষড়যন্ত্র খ. আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।
ক. জাতীয় পর্যায়ে ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে ছিল আওয়ামী লীগের একটি অংশ, সেনাবাহিনীর একটি অংশ এবং উগ্র বামপন্থীদের একটি অংশ।
৩. আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী রাষ্ট্রসমূহ।
১ (ক). বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে যারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলো তাদের সবার নামই সবাই জানে এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সবাইকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে যদিও এখন পর্যন্ত সবার মৃত্যুদ- কার্যকর করা সম্ভব হয়নি নানা কারণে।
১ (খ). এই পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে আমরা যাদেরকে চিহ্নিত করতে চেষ্টা করব, তারা সেদিনের অভ্যুত্থানে সরাসরি অংশগ্রহণ করলেও তাদের অনেকেই বলেছে যে, তারা জানতো না সেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হবে। তাদের বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করা হবে। তাদের এই বক্তব্য অবিশ্বাসের উর্ধ্বে নয়। তবে ইতিহাসের প্রেক্ষিতে এবং সূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রেক্ষাপটে তাদের বক্তব্যও তুলে ধরা হলো।
প্রথমেই শেখ শরিফুল ইসলাম ডালিমের বক্তব্য- “ডালিম শেখ সাহেবের সহধর্মিণীকে ‘মা’ বলত-আমি নিজের কানে সেটা শুনেছি। রেহানারা ওকে ‘ভাইয়া’ বলত-এও আমার নিজের কানে শোনা। ডালিমের বউ নিম্নিকে ‘ওরা’ ভাবি বলত। ডালিম কুমিল্লাতে যখন ছিল, তখন ওরা কুমিল্লায় বেড়াতে এসে ওদের বাড়িতে গিয়ে উঠেছে।
হুদা ডালিমকে একবার বলেছিল, “যারা তোমাকে ভাইয়া বলে, তোমার বউকে ভাবি বলে, না- হয় তোমার চাকরি খেয়েছিল, কিন্তু তুমি কীভাবে বাচ্চাদের মারলে।” তখন নাকি ডালিম বলেছিল, ‘আমি ওখানে (অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে) ছিলাম না’।
হুদা আমাকে বলেছিল, ডালিমকে সেদিন ও-ই কথা বলার পর ও নাকি অঝোরে কেঁদেছিল। তারপর বলেছিল, “স্যার, আমি জানতাম না যে, মেরে ফেলা হবে। আমাকে বলা হয়েছিল শুধু শেখ মুজিবকে আটক করবে। আটক করে নিয়ে যাবে। এইভাবে যে রাসেলকেও মেরে ফেলবে তা আমার ধারণাতেও ছিল না”।….. ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ডালিম ও তার স্ত্রী কোন বিয়ে বা জন্মদিন জাতীয় অনুষ্ঠানে ছিল। সেখান থেকে রশিদ ওকে ডেকে নেয়।
(কর্নেল হুদা ও আমার জীবন যুদ্ধ। পৃষ্ঠা -১০৯-১১০) নীলুফার হুদা। (আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি ও ১৯৭৫ সালে নিহত কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদার স্ত্রী।)
এমন বক্তব্য ঐ রাতের অভ্যূত্থানে অংশগ্রহণকারী আরো কেউ কেউ দিয়েছে।
২ (ক). বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক কুশিলবদের নেতৃত্বে ছিল খন্দকার মোশতাক আহমেদ, তাহের উদ্দীন ঠাকুর ও মাহবুব আলম চাষী। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই এই তিনজন নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তাদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পীকার ও পরবর্তীতে আওয়ালীগের সভাপতি আব্দুল মালেক উকিল লন্ডনে বসে যে মন্তব্য করেছিলেন তাতে এই ষড়যন্ত্রের সাথে তিনি জড়িত না থাকলেও তার আনন্দের অভিব্যক্তিই প্রকাশিত হয়। সুতরাং একথা বলা চলে যে, একদিকে যেমন আওয়ামী লীগের একটা অংশ এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল তেমনি মালেক উকিলের মত অনেকেই তাতে খুশি হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে ঐক্য না থাকার কারণেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে মুনতাসীর মামুনের বিশ্লেষণ হচ্ছে, “আমার গবেষণায় দেখেছি কিছু সেনা অফিসার বাদে, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি সন্তোষ্ট ছিলেন না। তাকে উৎখাত করার জন্য ডালিমরা যেমন গোপন সেল করেছিলেন তেমনি লে. কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বেও (জাসদ) সেল গঠন করা হয়েছিল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যায় সম্পূর্ণ সেনাবাহিনীর এক ধরনের সায় ছিল।” (ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দুই রাষ্ট্রপতি হত্যা। পৃষ্ঠা -১৭)। মুনতাসীর মামুনের এই বক্তব্যের সাথে আর দুটো ঘটনা উল্লেখ করলে অনেক কিছুই স্পষ্ট হবে।
ঘটনা ১.
১৯ আগস্ট সেনাসদরে আরেকটি মিটিং হয়। সেনাপ্রধান সভায় ঢাকাস্থ সকল সিনিয়র অফিসারকে তলব করেন। তিনি মেজর রশিদ ও ফারুককে সঙ্গে করে কনফারেন্স রুমে এলেন। বললেন, প্রেসিডেন্ট মোশতাকের নির্দেশে রশিদ ও ফারুক সিনিয়র অফিসারদের কাছে অভ্যুত্থানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করবে। রশিদ তার বক্তব্য শুরু করলো। সে বলল, সেনাবাহিনীর সব সিনিয়র অফিসার এই অভ্যুত্থানের কথা আগে থেকেই জানতেন। এমন কি ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডারও (অর্থাৎ আমি) এ বিষয়ে অবগত ছিলেন। রশিদ আরো দাবি করলো, প্রত্যেকের সঙ্গে আগেই তাদের আলাদাভাবে সমঝোতা হয়েছে। উপস্থিত অফিসারদের কেউই এই সর্বৈব মিথ্যার প্রতিবাদ করলেন না। একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না কেউ। কিন্তু আমি চুপ থাকতে পারলাম না। নীরব থাকা সম্ভব ছিল না আমার পক্ষে। ফারুক-রশিদের মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আমি সেদিন বলেছিলাম, You are all liars, mutineers and deserters. You are all murderers. Tell your Mustaque that he is an usurper and conspirator. He is not my President. In my first opportunity I shall dislodge him and you all will be tried for yours crimes। আমার কথা শুনে তারা বাক্যহীন হয়ে পড়ে এবং বিষন্ন মুখে বসে থাকে। যাই হোক আমার তীব্র প্রতিবাদের মুখে মিটিং শুরু হতে- না- হতেই ভেঙে গেলো।
কর্নেল শাফায়েত জামিল (একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর। পৃষ্ঠা ১০৮ ও ১১১)
ঘটনা -২
“১৯৭৫-এর মার্চের মাঝামাঝি কোন এক রাতে গোলাসহ ৬টি ট্যাংক বিশেষ ট্রেনযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জীবন্ত গোলাবর্ষণ মহড়ার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মেজর ফারুকের ওপর দায়িত্ব ছিল কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্যাংকগুলো বিশেষ ট্রেনে তুলে দেওয়ার কাজটি তদারক করা। ফারুক গভীর রাতে মেজর নাসিরের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাকে জানান যে, তিনি ট্যাংক ট্রেনে না তুলে সেই রাতেই একটি অভ্যুত্থান ঘটাতে চান। নাসিরকে তার প্রয়োজন; কারন বেঙ্গল ল্যান্সারস-এ চারশর মতো মুক্তিযুদ্ধা সৈনিক আছে যারা নাসিরের নির্দেশ মেনে নেবে। নাসির ফারুকের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে ফারুকের উপস্থিতিতেই টেলিফোন করেন। খালেদ মোশাররফ ফারুকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাকে নিবৃত্ত করেন এবং নাসিরকে নির্দেশ দেন ফারুকের সঙ্গে কমলাপুর রেলস্টেশনে যেয়ে ট্যাংক ট্রেনে তোলা তদারক করার জন্য।”
মেজর নাসিরউদ্দিন (গণতন্ত্রের বিপন্ন ধারায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পৃষ্ঠা-৫৮-৫৯।)
ঘটনা-৩.
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী লেঃ কর্নেল ফারুক রহমান এবং আব্দুর রশীদ (যাদের মৃত্যুদ- ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে) ১৯৭৬ সালের ২ আগস্ট ANTHONY MASCARENHAS এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। যা ITV তে প্রচারিত হয়। উক্ত সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ নিম্নরূপ-( A.M means ANTHONY MASCARENHAS, F.R means Farooq RAHAMAN )

A.M  Once set on removing Mujib, the young Colonels had to find someone to put in his place. Their obvious choice was a man of their own kind, an army man.so they approached Major General Zia.

F.R  The first obvious choice was General Zia. because, at least, he was not tarnished. So after a lot of arrangements I managed to see him 20th March 1975 in the evening. General Zia said I am a senior officer. I cannot be involved in such things. If you, junior officers want to do it, go ahead.
উপরোক্ত ঘটনাবলী থেকে এ কথা স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয় যে, সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তা এই অভ্যুত্থান পরিকল্পনার কথা জানতেন কিন্তু তারা কেউই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এমনকি সেনাবাহিনীর উপপ্রধান (যার জন্য সেনাবাহিনীতে এই পদটি সৃষ্টি করা হয়।) মেজর জেনারেল জিয়া তাদের উৎসাহিত করেন।
স্থানাভাবে আরো নানা তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা গেল না। তবে উপরে উল্লেখিত তথ্যে এটা প্রমাণিত হয় যে, সেনাবাহিনীর অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তার সাথে যুক্ত হয়েছিল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। তখন পর্যন্ত কিছু কিছু রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। ঠিক এমনি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু যখন বাকশাল কায়েম করেন তখন সেই আন্তর্জাতিক চক্রটি আরো সক্রিয় হয়ে উঠে। ১৯৭৪ সালে যখন দুর্ভিক্ষ সহ নানা ভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজিনৈতিক অবস্থা সবচেয়ে ভঙ্গুর তখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি। কিন্তু যখনই তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের আলোকে বৈষম্যহীন, সামাজিক মর্যাদাপূর্ণ সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে বাকশাল কায়েম করলেন তখনই তাঁকে হত্যা করা হলো। প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-টি যেমন একদিকে ছিল সামরিক, বেসামরিক, রাজিনৈতিক উচ্চাভিলাষী ও ব্যাক্তিগত জিঘাংসা চরিতার্থ করার যৌথ প্রয়াস তার সাথে যুক্ত হয়েছিল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। যারা ১৯৭১ সালে পরাজিত হয়েছিল সকল প্রকার ষড়যন্ত্র করেও বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে প্রতিহত করতে সেই পরাজিত দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরাই ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকরার মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকেই পরাজিত করতে চেয়েছিল। পরিশেষে অপরাধ বিজ্ঞানের একটি সূত্র উল্লেখ করে আজকের লিখাটা শেষ করতে চাই।
অপরাধ বিজ্ঞানের সাধারণ একটি সূত্র হলো, সংঘটিত কোন ঘটনা থেকে যে বা যারা সবচেয়ে বেশী লাভবান হয় তারাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকে। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তীকালে যে বা যারাই লাভবান হয়েছিল তারা প্রত্যেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত -একথা বলা যেতেই পারে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথপুর সরকারি কলেজ।