১৭ ইউপি ভোট আজ

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলায় ৯ টি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৮ টি ইউনিয়নে আজ শঙ্কার ভোট। সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। দুই উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নের ১৬২ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে ১৫৩ কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ও শুধুমাত্র সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জেলা শহরের নিকটবর্তী ইউনিয়নগুলোতে ভোট হওয়ায় উত্তেজনা বেশি। নিরাপত্তা বলয়ও সেভাবেই তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা।
এই ধাপে সদরের লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং বাকিগুলোতে প্রচলিত ব্যালট পেপারে ভোট হবে। নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে। ভোটের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় টহল শুরু করেছেন। তারা থাকবেন ভোটের পরের দিন পর্যন্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে রয়েছেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে ২য় ধাপের ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দুইটি উপজেলায় ৪ জন করে ৮ জন রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
দুই উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ১ হাজার ৫৯ জন প্রার্থী। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১০৬ জন, সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৭৪২ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য পদে ২১১ জন প্রার্থী রয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৭৮ জন প্রার্থী। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১১৬ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৯৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এদিকে শান্তিগঞ্জে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৮১ জন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯৫ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
আগের বারের মতো এবারও দলীয় প্রতীকে ভোট নেওয়া হলেও এই নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের কোনো প্রার্থী নেই। তবে ১৭ ইউনিয়নে ১১ টিতে ভিন্ন প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ১৫ বিএনপি নেতা। কোন কোন ইউনিয়নে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এসব প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ দলের প্রার্থীও রয়েছেন মাঠে। কিন্তু বেশিরভাগ স্থানেই নৌকা প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহীরা। সদর উপজেলার রঙ্গারচর ও লক্ষণশ্রী ব্যতিত ১৫ ইউনিয়নে নির্বাচন করছেন ২৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। দলের প্রার্থীর বিজয় ঠেকাতে এরাই শেষ পর্যন্ত কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের ভোটাররা। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলের নির্দেশনা অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে ৫ দলীয় নেতাকে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচারকাজ বন্ধ করতে হয়। সেজন্য ইউনিয়নে প্রচারণা শেষ হয়েছে গত শুক্রবার রাত ১২টায়। এদিকে প্রচার প্রচারণা শেষে ভোটের হিসাব কষছেন প্রার্থীরা।
মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এদিকে ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ইতোমধ্যে ২৯ নভেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। শনিবার (২৭ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে রবিবার (২৮ নভেম্বর) মধ্যরাত পর্যন্ত সব যন্ত্রচালিত যান (ইসির অনুমতিপ্রাপ্ত যানবাহন ব্যতীত) চলাচল বন্ধ থাকবে। নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনো মিছিল, শোভাযাত্রাও করা যাবে না।
দ্বিতীয় ধাপে আজ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর, সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর, মোল্লাপাড়া, কাঠইর, মোহনপুর, গৌরারং, লক্ষণশ্রী, কুরবাননগর ইউনিয়ন এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস, শিমুলবাঁক, পাথারিয়া, দরগাপাশা, পূর্বপাগলা, পশ্চিম পাগলা, পূর্ব বীরগাঁও ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ইতিমধ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, সবগুলো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭০ টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ চিহিৃত করা হয়েছে।
বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার ভোটের দিন মাঠে দুই উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নে ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। প্রতি কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে দুই জন পুলিশ সদস্য এবং প্রতি কেন্দ্রে ১৭ জন আনসার বাহিনীর সদস্য থাকবে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ সুপারসহ তিনিও কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরবেন।