১৭ দিনেও কোন সহায়তা জুটেনি সুরমা বেগমের

জগন্নাথপুর অফিস
সময় তখন বিকেল ৫টা। নির্জন বাড়িতে সুরমা বেগম তাঁর কোলের শিশু ও তিন বছরের সন্তান নিয়ে একা ছিলেন। বাইরে অঝোড় বৃষ্টি পড়ছিল। সেই সঙ্গে মাঝে মধ্যে ঝড়ো হাওয়া বইছে। এরইমধ্যে বসত ঘরে হাঁটু সমান পানি উঠেছে। ভয়ে তাঁর গলা শুকিয়ে আসছে। কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। হঠাৎ তাঁর বৃদ্ধ শশুরকে বাড়ির দিকে আসতে দেখে দুইশিশু সন্তান নিয়ে শ্বশুরের সঙ্গে চলে যান আশ্রয়ের জন্য। ঘরের কোনো জিনিসপত্র নিতে পারেননি। ফলে বন্যার ঢলে ভেসে যায় সব।
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের উত্তর নাদামপুর গ্রামে পরিদর্শনকালে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন, ওই গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী সুরমা বেগম (২৫)। গত কয়েকদিন ঘরে পানি কমছে দেখে রবিবার তিনি শ্বশুরকে নিয়ে বাড়ি দেখতে এসেছিলেন।
সুরমা বেগম জানালেন, শুক্রবার (১৬ জুন) দুপুরের দিকে বাড়ির আঙ্গিনায় পানি প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পড়ে বসতঘরে ঢুকে যায়। তিনি দুশ্চিতায় পড়ে যান। বাড়িতে তখন দুই শিশু সন্তান নিয়ে আমি একা, আর কোনো লোকজন নেই। স্বামী উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর বাজারে। মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়ে সন্তানদের বাবার ফোনের সংযোগ পাইনি। কারণ তখন নেটওয়ার্ক ছিল না। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখ যেন ঝাপসা হয়ে আসছিল। ঘরে তখন হাঁটু সমান পানি। হঠাৎ দেখতে পাই আমার শ্বশুর বৃষ্টিপাতের মধ্যে খোলা একটি নৌকা নিয়ে বাড়িতে ঢুকছেন। ঘরের সব কিছু রেখে শ্বশুরের সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় জন্য চাচা শ্বশুরের বাড়িতে চলে যাই।
সুরমা জানান, বন্যার পানি ঘরের চেয়ার, টেবিল, হাড়ি—বাসন, বালিশ, বিছানাপত্র, ঘরের আসবাসপত্র ভেসে গেছে। বন্যার ঢলে বসতবাড়ির বেড়ার টিন, বাঁশের পালাসহ ঘরের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
দরিদ্র এ নারী জানান, এই দুর্যোগের মধ্যে গত ১৭ দিনে কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। কষ্টে চলছে জীবন। বাড়ি মেরামত নিয়ে দুশ্চিতার শেষ নেই।
সুরমা বেগমের শ্বশুর মাহমদ আলী জানান, ঢল আসার আগেই আমরা আমাদের পুরান বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম। বাড়িতে শুধু আমার ছেলের পরিবার ছিল। বন্যার ঢল দেখে আমি একটি খোলা নৌকা নিয়ে কোনভাবে তাঁদের উদ্ধার করে আমার ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে আসি।
ওই নারীর স্বামী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি জগন্নাথপুর বাজারে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছি কোনেভাবে। বন্যার আমার সব কিছু শেষ করে দিয়েছে।
তিনি জানান, বসতঘর থেকে পানি নামলেও আঙ্গিনায় এখনও পানি থাকায় দিনের বেলা বাড়িটি দেখাশুনার জন্য পরিবারের লোকজন আসা যাওয়া করেন। বিকেলে আবার আশ্রিত বাড়ীতে তাঁরা চলে যান।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সাদিক আলম জানান, সাইফুল ইসলামের মতো অনেক পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদের মধ্যে সাইফুলের পরিবারকে সহায়তা করা হবে।