১৯ দিন পর দোকানপাট খুলেছেন ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার
লকডাউনের ১৯ দিন পর শহরে দোকানপাট খুলে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় অন্ধকারে ইঁদুরে নষ্ট করেছে মালামাল। অনেককে ধার করে দিতে হচ্ছে দোকান ভাড়া, কারেন্টের বিল ও কর্মচারীদের বেতন। তবে বুধবার দোকানপাট খুলে বসলেও বৃষ্টিতে আশানুরূপ ক্রেতা পাননি ব্যবসায়ীরা।
বুধবার শহরের মধ্যবাজারের বিভিন্ন মার্কেটের কাপড়ের দোকান ও গার্মেন্টেস, সুরমা মার্কেটের গার্মেন্টস, চুড়ির দোকান, লেপ-তোষকের দোকান, মিউনিসিপ্যাল মার্কেটের ও জগন্নাথবাড়ি এলাকার প্রসাধনী ও কসমেটিক্সের দোকান, রমিজ বিপণীর জুতার দোকান, পূর্ববাজার জামে মসজিদ মার্কেটের দোকান, পৌরবিণীর জুতার দোকান, বইয়ের দোকান, লতিফ প্লাজা, দোজা মার্কেটের কাপড়ের দোকান, ব্যাগের দোকান ও কসমেটিক্সের দোকান, শহরের বিভিন্ন স্থানের সেলুনের দোকান, মোবাইলের দোকান, হোটেল রেস্তুরা, কাজীর পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানের মিষ্টির দোকান, ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানসহ বিভিন্ন রকমের দোকান, সবজির দোকান ও ফলের দোকান খুলে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এসব দোকানে আশানুরূপ ক্রেতা আসেননি। বৃষ্টি বাদলের কারণে গ্রামের মানুষের শহরে আগমন কম ছিল। শহরের রাস্তা-ঘাটে যানবাহন চলাচলও ছিল কম।
শহরে আসা ক্রেতা সাজাউর রহমান বলেন, লকডাউন শেষ হলেও সুনামগঞ্জের মানুষ কম কম লাগে। বাজার মরা মরা ভাব। যেমন ক্রেতা-বিক্রেতার চেতনা নেই। অলস মনে বসে আছেন দোকান ঘরে।
অপর ক্রেতা শাখাওয়াত হোসেন পলাশ বলেন, ক্রেতা শূন্য দোকানে ব্যবসায়ীরা বসে লকডাউনে বন্ধ থাকা দোকানে তাদের লোকসান হওয়া দিনগুলোর কথা ভাবছেন।
সবজি বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, অনেকদিন পর আজ সবজির দোকান মেলে ফুটপাতে বসেছি। যদি আইনের লোকে বাঁধা না দেয়, তবে ব্যবসা করে সংসারের খরচ যোগান দিতে পারবো।
চশমা ঘরের আনোয়ারুল হক বলেন, লকডাউনের পর দোকান খুলেও কাস্টমার নেই। শুধু বসে গল্প করছি। দিন ভাল হলে কাস্টমার আসবে। দুই একদিন এমনই যাবে অবসরে।
সততা বস্ত্রালয়ের ব্যবসায়ী কাজল রায় বলেন, লকডাউনে বন্ধ থাকার সুযোগে ইঁদুরে অনেকগুলো কাপড় কেটেছে। বাছাই করে আলাদা করেছি। এগুলো কম দামেই বিক্রি করতে হবে। আজ বিকিকিনি নেই।
পুষ্প বস্ত্রালয়ের দীপক রঞ্জন রায় বলেন, লকডাউনের ১৯ দিনে ঘর ভাড়া, কারেন্টের বিল, কর্মচারী বেতন দিতে হবে। ব্যবসা বন্ধ থাকলেও এগুলো দিতে হয়। আজ দোকান খোলার পরও কোনো ক্রেতা নেই।
সপ্তর্ষি বস্ত্রালয়ের অনন্ত দাস বলেন, দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকার পর আজ খুলেছি দোকান। কিন্তু ক্রেতা নেই। মানুষের লকডাউনের আতঙ্ক কেটে উঠেনি। তাই গ্রামের মানুষ শহরমুখি হচ্ছেন না।
প্রিন্স ষ্টোরের নুরে আলম বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নতুন জুতায় পাঙাস জমে উঠেছে। এ গুলোকে নতুনের আদলে নিয়ে আসতে অনেক সময় লাগবে। এতে খরচ ও কষ্ট বেড়ে গেছে।