২৮ প্রকল্পের মধ্যে অনুমোদন পেল ১৭টি

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজে আগ্রহ কমছে কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের। ১৫ ডিসেম্বর থেকে পুরোদমে হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া গত বছরের বাঁধের কাজের বকেয়া টাকা অনেকেই পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক যৌথসভায় চলতি বোরো ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় জানানো হয়, এবার ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ২৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধের কাজ শুরু হবে। এরমধ্যে ১৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কৃষকদের অংশগ্রহণে অবশিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করে নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে হাওরের বেড়িবাঁধের কাজে সংস্পৃক্ত কৃষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল এখানকার লোকজন। ঠিকাদারী প্রথায় যখন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ হতো, তখন নামমাত্র কাজ করে ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে লুটপাট করা হতো। যার ফলশ্রুতিতে ২০১০ সালে জগন্নাথপুরের হাওরগুলোতে ফসল পাকার আগেই নিম্নমানের বাঁধগুলো ভেঙে ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এ ছাড়া ২০১৭ সালে জগন্নাথপুরসহ সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি হাওরে ফসলডুবির ঘটনা ঘটে। কৃষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঠিকাদারী প্রথা বাতিল করে হাওরের ফসলরক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) প্রথা চালু করা হয়। শুরু থেকেই পিআইসি প্রথাকে বিতর্কে ফেলতে নানা ফন্দি আঁটে পাউবো। বাঁধের কাজ ভালো করেও নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে প্রকল্প কমিটির সদস্যদের এমন অভিযোগ শুনা যাচ্ছে। এছাড়া কাজ করেও মিলছে না সময় মতো টাকা। ফলে দিনদিন বাঁধের কাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন হাওরাঞ্চলের কৃষক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পিআইসির সদস্য জানান, গতবছরের হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ করেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত বিলের অর্থ পাওয়া যায়নি। বাঁধের কাজ আদায়ে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। কখনও পুলিশী গ্রেপ্তারি ভয়। তখন বাঁধের কাজ সমাপ্ত করতে ঋণ করে টাকা এনে কাজ করা হয়। নীতিমালা অনুয়ায়ী কাজ করেও যথাসময় অর্থ মিলে না। একারণে বাঁধের কাজে আগ্রহ কমেছে কৃষকদের ।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া জানান, ঠিকাদারি প্রথায় যখন হাওরের বাঁধের কাজ হতো তখন ৩০ জুনের মধ্যে কাজ না করেই ঠিকাদার আর পাউবো ভাগ-বাটোয়ারা করে চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়ে যেত। পিআইসিরা নীতিমালা অনুয়ায়ী কাজ করে টাকা পাচ্ছেন না। ফলে এখন পিআইসি নিতে কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আগ্রহ কমেছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রথার চেয়ে পিআইসিদের ভালো কাজ হয় এটা নিঃসন্দেহে। তারপরও পিআইসির হয়রানির শিকার হওয়া দুঃখজনক। আমরা লুটপাটের ঠিকাদারি প্রথায় ফিরে যেতে চাই না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, গত বছরের ৫টি প্রকল্পের কাজে ত্রুুটি থাকায় বকেয়া বিল দেওয়া হয়নি। তবে গতকাল থেকে ওই সব প্রকল্পের টাকা দেয়া শুরু হয়েছে।
জগন্নাথপুরের উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, নীতিমালা অনুয়ায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাওরের বাঁধের কাজ শেষ করা হবে।