৩৬ বছর ধরে চিকিৎসক নেই, স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত ইউনিয়বাসী

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গত ৩৬ বছর ধরে চিকিৎসক না থাকায় এ ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্য সেবার লক্ষে ১৯৮৪ সালের ২০ই মার্চ প্রতিষ্ঠা করা হয় বাদাঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। কিন্তু শুরু থেকেই এ কেন্দ্রে কাগজে কলমে একজন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনদিন এক ঘন্টার জন্যও মেডিকেল অফিসারের স্বাস্থ্যসেবা পায়নি এ ইউনিয়নবাসী। অপরদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে নানান সমস্যায় জর্জরিত।
সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে মেডিকেল অফিসার ১জন, উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ১জন, ফার্মাসিস্ট ১জন, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা ১জন, আয়া ১জন, এমএলএসএস ১জন সহ মোট ৬জনের পদ থাকলেও রহস্যজনক কারণে গত ৩৬ বছরের মধ্যে ১দিনের জন্যও এখানে কোন মেডিকেল অফিসার চিকিৎসা সেবা প্রদান করেননি। ফলে এ ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ কাংখিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল ভবনেও রয়েছে অসংখ্য ফাটল, ফ্লোরেই নেই টাইলস। দেখলে মনে হবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি যেন নিজেই রোগী। বাউন্ডারী দেয়াল থাকলেও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সুরক্ষার জন্য নেই পর্যাপ্ত উচ্চতা কিংবা বাউন্ডারীর উপরের অংশে কাঁটা তারের বেষ্টনী। বাউন্ডারীর পূর্ব পাশের দেয়ালের মাটি সরে গিয়ে ভেঙে পরার উপক্রম দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিছনে আবাসিক কোয়ার্টারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। রোগীদের জন্য নেই আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল, নেই কোন শৌচাগার। যার ফলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সেবা নিতে আসা রোগীদের পরতে হয় নানা বিড়ম্বনায়। এই কেন্দ্রটিতে ২৪ ঘন্টা ডেলিভারীর সার্ভিস চালু থাকলেও জরুরী রোগী পরিবহনে নেই কোন এ্যাম্বুলেন্স।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিশ্বজিৎ কৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, এ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও তিনটিতেই মেডিকেল অফিসারের পদটি শূন্য।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক জানান, সারা দেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক সংকটের কারণে আমরা চিকিৎসক পদায়ন করতে পারিনা। এ জেলার যেসকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলোতে চিকিৎসক সঙ্কট রয়েছে আমি লিখিত ভাবে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তিনি বলেন, আমার জানা মতে বাদাঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কয়েকবার চিকিৎসক দেয়া হয়েছে। তবে তাঁরা কেন কি কারণে সেখানে থাকেন না তা আমার জানা নেই।