- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

৩ আসামির বর্ণনায় ঘটনার আদ্যোপান্ত

সু.খবর ডেস্ক
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেছে তিন আসামি। ধর্ষণের শিকার তরুণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, ধর্ষণ ও লুটপাটের সময় কার কী ভূমিকা ছিল, তা আদালতকে জানিয়েছে আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম। শুক্রবার বিকেলে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর। আর রবিউল জবানবন্দি দেয় মুখ্য মহানগর হাকিম (দ্বিতীয়) সাইফুর রহমানের আদালতে।

মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য তিন আসামিকে আদালতে হাজির করলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আদালতে আনার পর বিচারক প্রথমে তাদের ভাবনাচিন্তার সময় দেন। এরপর তারা বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এই মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামির মধ্যে বাকি পাঁচজন এখনও পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে।

সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলের পাঁচ দিনের রিমান্ডের শেষ দিনে শুক্রবার পুলিশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের আদালতে নিয়ে আসে। গত সোমবার আদালতের নির্দেশে তাদের রিমান্ডে পেয়েছিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার অন্য তিন আসামি মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন মিয়া ও আইনুদ্দিনের সঙ্গে তাদেরও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মাহবুব, রাজন ও আইনুদ্দিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আজ শনিবার শেষ হচ্ছে। তাদের জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আজ আদালতে হাজির করা হবে বলে তদন্ত সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া আজ রিমান্ডে থাকা অন্য দুই আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক ও মাহফুজুর রহমান মাসুমের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হতে পারে। রোববার তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের সময় শেষ হচ্ছে। তাদের মধ্যে তারেক এমসি কলেজের প্রধান ফটক থেকে গাড়ি চালিয়ে ছাত্রাবাসে নিয়ে গিয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন গৃহবধূর স্বামী।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্তে আসামিদের সঙ্গে সেদিন বিকেল থেকে তরুণী ও তার স্বামীর যোগাযোগের প্রমাণ রয়েছে।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তার রাজন ও আইনুদ্দিন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। হবিগঞ্জ থেকে মাহবুবকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজন ও আইনুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের পর সাইফুর প্রথমে রাজন ও আইনুদ্দিনের ওপর সব দোষ চাপিয়ে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে। তবে রিমান্ডে নেওয়ার পর সাইফুরসহ অন্য আসামিরা ঘটনায় নিজেদের ভূমিকা স্বীকার করে। গৃহবধূর স্বামী জানিয়েছেন, আইনুদ্দিনের সঙ্গে তার স্ত্রীর আগেই যোগাযোগ হয়েছিল। মোবাইলের কললিস্টে পুলিশ তার প্রমাণও পেয়েছে।
সূত্র : সমকাল

  • [১]