৩ মেয়র প্রার্থী স্বশিক্ষিত, সম্পদে এগিয়ে রহমত উল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নাদের বখত নৌকা, বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মুর্শেদ আলম ধানের শীষ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন। নির্বাচনী হলফনামায় তিন প্রার্থীই নিজেদের স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন।
বর্তমান মেয়র নাদের বখ্ত নিজের পেশা উল্লেখ করেছেন রাজনীতিবিদ হিসেবে। বিএনপি প্রার্থী মুর্শেদ আলম পেশা হিসেবে হলফনামায় ব্যবসা, ফার্মের আয় ও দোকান ভাড়া উল্লেখ করেছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ্ পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন কসমেটিকস্ ব্যবসা। 
আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী নাদের বখ্ত এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ কোন ফৌজিদারী মামলায় অভিযুক্ত নন। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে কোন ফৌজিদারী মামলাও হয়নি। বিএনপি প্রার্থী মুর্শেদ আলম এর রিরুদ্ধে অতীতে দ-বিধি ১৪৩/৩৩২/৩৫৩/৪২৭ ধারায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক ১ম আদালতে মামলা হয়েছিল। মামলা নম্বর ৭/২০১৫ জি.আর। মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি কোন ফৌজিদারী মামলায় অভিযুক্ত নন।
হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী সম্পদে এগিয়ে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ্। স্থাবর সম্পদ ছাড়া তার মোট সম্পদ রয়েছে ২৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার। এছাড়াও স্থাবর সম্পদ ছাড়া আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নাদের বখত’র সম্পদ রয়েছে ১৯ লক্ষ ৭ হাজার টাকার এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুর্শেদ আলম’র সম্পদ রয়েছে ৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ৮৫০ টাকার।
আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাদের বখত’র চাকুরী থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ৫ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা এবং ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক সমাগ্রী রয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং ১ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।  এছাড়া স্ত্রী ও নিজ নামে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকারাদি রয়েছে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১.২৮ একর কৃষি জমি।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুর্শেদ আলম এর বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বাৎসরিক আয় ২ লক্ষ ৮২ হাজার ২৪০ টাকা, ফার্মের আয় ৯২ হাজার  ৬১০ টাকা হলফনমায় উল্লেখ করেছেন।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ২০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা, স্ত্রী ও  নিজের নামে বৈবাহিক সূত্রে প্রাপ্ত ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ২ লক্ষ টাকা, বৈবাহিক সূত্রে প্রাপ্ত ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৫০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র ১ লক্ষ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত টিনসেড বাড়ি এবং অন্য টিনসেড একটি ও পাকা বাড়ি ১ টি।
এছাড়াও ব্র্যাক ব্যাংকে ৫ লক্ষ এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণ রয়েছেন মুর্শেদ আলম’র। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাদের বখত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ’র কোন ঋণ নেই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ্ এর বাৎসরিক আয় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে বৈবাহিক সূত্রে প্রাপ্ত ৭ ভরি স্বর্ণ ৭০ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৮০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা, অন্যান্য ১৫ লক্ষ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে যৌথ মালিকানায় ১০ শতক অকৃষি জমি, যৌথ মালিকানায় একটি দালান।  
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩০ ডিসেম্বর বুধবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতীক পেয়েই প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। আগামী ১৬ জানুয়ারি এই পৌরসভায় ভোট।