৪ ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ৪ ধর্ষকের যাবজ্জীবন এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী ২ জনকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (দায়রা জজ) মো. জাকির হোসেন ৪ টি পৃথক মামলার এই রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পি.পি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় এবং আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মুনির আহমেদ, অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামছুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হামিদ এবং অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হাকিম খান।
২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সদরগড় গ্রামের মো. জগলু মিয়ার বোন গণধর্ষণের শিকার হন। সুরমা ইউনিয়নের কাওয়ার হাওরের কান্দার উপর নিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে ইব্রাহিমপুর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে নুরুল হক, আরজু মিয়ার ছেলে সুরুজ্জামান ও অক্ষয়নগর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে আব্দুল মালেক। গণধর্ষণের পর জাহানারা বেগমের গলায় গামছা পেঁছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে আসামীরা। পরে থানায় মামলা (৫৮/০৯) দায়ের হলে আসামী নুরুল হক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। আদালত গণধর্ষণের দায়ে প্রত্যেকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- এবং এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানার টাকা ভিকটিম ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাবেন। রায় ঘোষণার সময় আসামীরা পলাতক ছিল।
এদিকে, ২০২১ সালের ১৪ মে রাতে জগন্নাথপুর থানার নবীনগর গ্রামের দুলভী বেগমকে ধর্ষণ করে একই গ্রামের মৃত ছাইম উল্লার ছেলে আব্দুল রশিদ। রায়ে আব্দুল রশিদ কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা ভিকটিম ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত হবে।
ওদিকে মোছাঃ সাজনা বেগমকে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতো স্বামী দোয়ারাবাজার উপজেলার মাঠগাঁও গ্রামের মোঃ ইসমাইল’র ছেলে মো. আব্দুল বারেক। ২০২০ সালের ৮ আগস্ট সকাল ৮টায় ব্যবসা করার জন্য দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে মো. আব্দুল বারেক। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে দায়ের কোপে সাজনা বেগমকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে সে। পরে মোছাঃ সাজনা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কোর্টে এসে এই মামলা দায়ের করেন। রায়ে মো. আব্দুল বারেক ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত ২ মাসের অতিরিক্ত কারাদ- প্রদান করা হয়। এসময় আসামী মরিয়ম বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস প্রদান করা হয়।
আরেকটি মামলায় বিশ্বম্ভরপুর থানার ছাতারকোনা গ্রামের মোছা. হালেমা ওরফে সেলিনা খাতুনের নিকট এক লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে অত্যাচার নির্যাতন করতো তার স্বামী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মধ্যনগর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে মো. রইছ মিয়া। একপর্যায়ে ভিকটিমের ভাইয়েরা বোনের পরিবারের শান্তির জন্য একলক্ষ টাকা খরচ করে আসামীকে একটি ঘর বানিয়ে দেয়। এরপর ২০১৮ সালের অটো গাড়ি কেনার জন্য আবারও একলক্ষ ৭০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে মো. রইছ মিয়া। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামী মোছা. হালেমাকে মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে রইছ মিয়া। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কোর্টে এসে এই মামলা দায়ের করেন হালেমা। দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত এই মামলার রায়ে আসামী রইছ মিয়াকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ২ মাসের অতিরিক্ত কারাদ- প্রদান করেন আদালত।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের পিপি অ্যাড. নান্টু রায়।