৫ টাকা কলসি করে কিনতে হচ্ছে খাবার পানি

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের পুরান লক্ষণশ্রী এলাকায় সুরমা নদীরপাড়ে প্রতিষ্ঠিত গুচ্ছগ্রামের দেড় শতাধিক পরিবারের গভীর নলকূপ না থাকায় দীর্ঘ দিন যাবত অন্যের নলকূপ থেকে খাবার পানি কিনে সংকট মিটিয়ে আসছেন। অন্যান্য সাংসারিক কাজের জন্য পাশের সুরমা নদীর পানি ব্যবহার করে আসছেন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। জরুরি ভিত্তিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি তাদের।
গুচ্ছগ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, ২০০৩ সালে ইউনিয়নের পুরান লক্ষণশ্রী এলাকায় সরকারিভাবে ১২০ পরিবারের জন্য গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময় থেকে পরিবারের পানির চাহিদা মেটাতে পর্যায়ক্রমে সরকার থেকে ১০টি সাধারণ নলকূপ স্থাপন করা হয়। স্থাপনের কয়েকদিন পর নলকূপে পানি না উঠায় বার বার নতুন করে নলকূপ স্থাপন করে দেয়া হয়। ইতোমধ্যে গুচ্ছগ্রামে পরিবারের সংখ্যা বেড়ে দেড় শতাধিক হয়েছে। গত ৫ বছর ধরে কোনো নলকূপে পানি না উঠায় মারাত্মক পানি সংকটে পড়েন তারা। পানি ফুটিয়ে পান করেন সুরমা নদীর। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য গ্রামের উত্তরে একটি পরিবার নিজেস্ব অর্থে স্থাপন করে গভীর নলকূপ (ডীপ)। এই ডীপ থেকে টাকার বিনিময়ে পানি সংগ্রহের সুযোগ পায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। ৫ টাকা করে কলসি কিনতে হচ্ছে খাবার পানি । গত একমাস আগে আরেকটি পরিবার স্থাপন করে গভীর নলকূপ। এই নলকূপ থেকেও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের পানি সংগ্রহের সুযোগ দেয়া হয়। আপাতত: খাবার পানি সংকট দুর হচ্ছে অন্যের নলকূপ থেকে। কিন্তু এই সুবিধা অস্থায়ীভাবে ভোগ করা হচ্ছে বলে জানান বাসিন্দারা। তাই এই গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ পানি সংকট নিরসনে অন্তত: ৪টি গভীর নলকূপ (ডীপ) স্থাপন জরুরি প্রয়োজনের কথা জানান।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আমির আলী, মোহাম্মদ আলী, রইছ মিয়া, সুফিয়া বেগম, ফয়েজুল হক, আম্বিয়া খাতুন, রেজু আয়াত, সামিরুন নেছা, খালেদা বেগমসহ অনেকে জানান, তারা খাবার পানি সংকটে ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরে। পানি সংকট নিরসনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিচ্ছেন না। ব্যক্তি মালিকানাধীন নলকূপের পানি আনা বন্ধ করে দিলে আমরা মহাবিপদে পড়বো। তাই জরুরিভিত্তিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি আমাদের।


কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী জাকিয়া বেগম ও সাজমিনা বেগম জানান, পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু আমাদের প্রতি মুহুর্তে খাবার পানি সংকট লেগেই আছে। বিষয়টি কেউ গুরুত্বসহকারে দেখছেন না। গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি আমাদের।
নিজস্ব গভীর নলকূপের পানি সরবরাহকারী জয় সরকার জানান, আমাদের নলকূপ স্থাপন করেছি গত এক বছর আগে। যেদিন থেকে পানি উঠানো শুরু করি, তখন শত শত কলস নিয়ে মানুষ হাজির হয়েছে পানি নিতে। আমরা কাউকে না বলতে পারি না। তখন পানি সংগ্রহকারীর পক্ষ থেকে টাকা দিয়ে পানি নেওয়ার কথা জানানো হয়। গভীর নলকূপের অপর পানি সরবরাহকারী শ্রীবাস দাস জানান, আমার নলকূপ স্থাপন করেছি গত দেড় মাস আগে। আমি প্রথম থেকে সবাইকে বলেছি সময়মত আসলে পানি দেবো। আমি এভাবেই পানি সরবরাহ করে আসছি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফুল মিয়া বলেন, পুরান লক্ষণশ্রী এলাকায় গুচ্ছগ্রামে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ওই গুচ্ছগ্রামে কোনো গভীর নলকূপ নেই। সাধারণ নলকূপ কোনোটিতে পানি উঠে না। এই বিষয় নিয়ে অনেকটা চিন্তায় আছি।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার বলেন, সদর উপজেলা পুরান লক্ষণশ্রী এলাকায় গুচ্ছগ্রামে নিরাপদ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ নলকূপে পানি উঠছে না। এই সংকট নিরসনের জন্য ২-১ দিনের মধ্যে গভীর নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।