৭০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ পৌর শহরে প্রায় ১ লক্ষ মানুষের বসবাস। নিরাপদ খাবার পানি সংকটে অন্তত ৭০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি ছাড়াও সাধারণ নলকূপের পানি ব্যবহার করে চলতো লক্ষ মানুষের সাংসারিক কাজ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ নলকূপে পানি না উঠায় এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শহরবাসী। এতে একাধিক পানি সংকট পরিবারে বেঁধে উঠছে কলহের দানা।
ওয়েজখালী এলাকার বাসিন্দা সুজিব দে, প্রভাত পাল, অমর চান পাল জানান, সাধারণ নলকূপের পানির উপর নির্ভরশীল ছিলেন পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানের হাজারো পরিবার। প্রতি পাড়ায় একাধিক সাবমারসিবল নলকূপ স্থাপনের কারণে সাধারণ নলকূপে পানি উঠছে না। এতে নিরাপদ পানি সংকটে পড়েছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যারা স্বচ্ছল তাঁরা গভীর নলকূপ (ডীপ) স্থাপন করেছেন। কেউ কেউ আবার ঋণগ্রস্ত হয়ে স্থাপন করেছেন গভীর নলকূপ। অসচ্ছল পরিবারের লোক অনেক দূরে গিয়ে অন্যের গভীর নলকূপ থেকে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে পানি সংগ্রহ করছেন। এই পানি কে সংগ্রহ করবে এ নিয়ে নিজেদের পরিবারের মধ্যে কলহের দানা বাঁধতে শুরু হয়েছে। অনেক অস্বচ্ছল পরিবার আছেন, যাঁরা তাঁদের জীবন জীবিকায় কারো কাছে হাত পাততেন না। কিন্তু পানি সংকটে পড়ে যেতে হচ্ছে অন্যের ধারে। কাকুতি মিনতি করতে হচ্ছে এক কলস পানি নিতে।
ওয়েজখালী ও বড়পাড়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, স্বামীর পরিবারে পানি সংকট থাকায় বাবার পরিবারে আশ্রয় নিচ্ছেন অনেকে। আবার বাবার পরিবারে পানি সংকটের কারণে মেয়ের পরিবারে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এতেও বাড়ছে নানা সমস্যা। একই বাসায় দুই পরিবারের বসবাসে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সৃষ্টি হচ্ছে দূরত্ব।
মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব দাস বলেন, নিরাপদ পানি সংকটে মহা বিপদে আছি। পরিবারের পানি সংকট মেটাতে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় থাকি। নিজে ডিপ কল স্থাপন করতে অনেক টাকা লাগে। অন্যের ডিপ থেকে পানি আনতে হয় আমাদের। তবুও সীমিত পরিমাণে।
বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা ফয়সল মিয়া বলেন, নিরাপদ পানি সংকট নিয়ে চলছে ঘরে ঘরে সমস্যা। এটাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হচ্ছে। স্ত্রী বলে ঋণ করে ডীপ বসাতে। স্বামী বলে ঋণ করলে পরিশোধের টাকা পাবো কোথায়। অনেকে তাঁর মেয়ের পরিবারে অবস্থান করছেন। আবার মেয়ের জামাই শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছেন।
বিভাস দাস বলেন, খাল-বিলের পানিও শুকিয়ে গেছে। পানি সংকটে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। অন্যের বাড়ি থেকে সীমিত পরিমাণে পানি সংগ্রহ করি। কাজ কর্মের পাশাপাশি প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করা অন্যতম কঠিন কাজ আমাদের। সময়মতো না গেলে পাওয়া যায় না পানি।
ওয়েজখালী এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দেব বলেন, নিরাপদ পানি সংকটে পড়ে অনেকে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এসব ভোগান্তি সহ্য করার মতো নয়। কেউ খালে যান পানি আনতে। আবার কেউ বিলে যান। এখন যে সময় কোথাও ভাল পানি নেই। নিরাপদ পানির সংকট সর্বত্র।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহমদ নুর বলেন, পানি সমস্যা নিরসন করতে অনেক সময় লাগবে। আমরা পৌর এলাকায় আরও একটি ওয়াটার প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছি। এটা হলে পানি সংকট অনেকটা দুর হবে। এই সময়ে পারিবারিকভাবেও নানা সমস্যার কথা শুনে আসছি। যার বাসায় পানি আছে, স্বজনরা তার বাসায় গিয়ে অবস্থান করছেন। একে অপরের বাসায় ৫ দিন বা ৭ দিন থাকলে তো সমস্যার সমাধান নয়। বরং পরিবারে চাপ বাড়বে। শ্রদ্ধা ভালবাসা কমবে। এই সংকটে সকলের বুঝ পরামর্শ করে থাকতে হবে।