৮টি সড়কে নানা ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ ৫ বছরেও আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। সৈয়দপুর গ্রামে জন চলাচলের অবহেলিত ৮টি সড়কে নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন গ্রামের বাসিন্দারা। এসব রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি তাঁদের।
সুরমা ইউনিয়নের বৃহৎ গ্রাম সৈয়দপুর। মুক্তিযোদ্ধা গ্রাম হিসাবে পরিচিত সর্বত্র। এই গ্রামের জনবসতি প্রায় ১২ হাজার। ভোটার আছেন প্রায় ৪ হাজার। এই গ্রাম নিয়ে গঠিত ৪ নম্বর ওয়ার্ড। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন একাধিক। শিক্ষার হারও বেশি। রয়েছে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা। গ্রামের এরিয়া বিশাল হওয়ায় রাস্তাঘাটও রয়েছে তুলনামূলক বেশি। তন্মধ্যে জন চলাচলের প্রধান রাস্তা ৮টি। এসব রাস্তায় গত ৫ বছরেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। এতে মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন।
গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ৫ বছর যাবত রাস্তায় উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। এরমধ্যে সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া চলতি নদীর বাঁধের সংস্কার কাজ না হওয়ায় ঝুঁকির মুখে আছে গ্রামের একটি অংশ। সৈয়দপুর হতে বালাকান্দা রাস্তা, এই রাস্তা দিয়ে হাটবারে আসা-যাওয়া করেন হাজার হাজার মানুষ। সৈয়দপুর হতে বেরীগাঁও রাস্তা, সৈয়দপুর বালুচরহাটী হতে চলতি নদীর পাড় রাস্তা, সৈয়দপুর ফজর আলীর বাড়ি হতে বিবির দরগাহ রাস্তা, সৈয়দপুর হাকিম আলীর দোকান হতে কাহার মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, সৈয়দপুর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুছ সাত্তারের বাড়ির সামনে হতে বাদারটেক রাস্তা, মনা মিয়ার দোকানের সামনে হতে মনির মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার হয়নি। তবে দীর্ঘ ৫ বছরে সৈয়দপুর হতে বেরীগাঁও রাস্তার নামেমাত্র মাটি ভরাটের কাজ হয়েছিল। একই বছর মনা মিয়ার দোকানের সামনে হতে মনির মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ হয়েছিল খুবই অল্প। তাও বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে।
সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্বাস আলী বলেন, আমাদের গ্রামের রাস্তায় সংস্কার কাজ হয়নি দীর্ঘ ৫ বছর ধরে। রাস্তায় মাটি ভরাটের তেমন উদ্যোগ নেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। রাস্তায় চলাচলে আমাদের দুর্ভোগের সীমা নেই।
আইনাল আবেদীন বলেন, আমাদের সৈয়দপুর গ্রামের রাস্তায় বর্ষার দিনে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে সংস্কার কাজ করেন। সরকার বরাদ্দ দেয়, কিন্তু রাস্তা সংস্কার হয় না।
ব্যবসায়ী সামছুল আলম বলেন, যোগাযোগ উন্নয়নে সৈয়দপুর গ্রাম খুবই অবহেলিত। নির্বাচনের সময় ভালমন্দ দেখে আমরা ভোট দেই। কিন্তু নির্বাচনের পর আমাদের ভোগান্তি বা সমস্যা সমাধানে কেউ খোঁজ নেয় না।
সমাজসেবক খুর্শেদ আলম বলেন, অনেকদিন ধরে গ্রামের চলাচল রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ হয় না। অথচ গ্রামের রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ আসে। আমরা সেই খবরও পাই না। মাটি ভরাটের কাজ হলে, দৃশ্যমান স্থানে তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা উচিৎ। কিন্তু তা কেউ করেন নি।
অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট দুলাল বলেন, এক গ্রামে এক ওয়ার্ড। কিন্তু উন্নয়ন নেই। এটা খুবই দু:খজনক। আমরা এলাকার যথাযথ উন্নয়ন চাই।
সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামছুল আলম রাসেল বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তির শিকার হয়। শিক্ষার অগ্রগতির বিষয়টি চিন্তা করে হলেও রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন জুরুরি প্রয়োজন ছিল।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার আলী বলেন, আমাকে চেয়ারম্যান আব্দুছ সাত্তার যা বরাদ্দ দিয়েছেন, তা দিয়ে ২ বার দুই রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করেছি।