৯ বছর ধরে ক্লাস নেন নৈশপ্রহরী

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ে পুরোদমে পাঠদান চলছে। তিনটি শ্রেণিকক্ষে তিনজন শিক্ষক পড়াচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণি কক্ষে উঁকি দিতেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক পাঠদান রেখে বেরিয়ে যেতে চাইলেন। শিক্ষকের এমন আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে কৌশলে জিজ্ঞেস করতেই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। জানা গেল তৃতীয় শ্রেণিতে পাঠদানরত শিক্ষক এ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আব্দুর রহমান। যিনি দীর্ঘ ৯ বছর ধরে তার কর্মস্থলের শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।
১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে ৩০৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৬ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। চলতি বছরেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন। আর সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন, মিজানুর রহমান ও জাহাঙ্গীর হোসেন চলতি বছরের শুরু থেকে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ ও সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিনের ওপর বিদ্যালয় সামলানোর দায়িত্ব পড়ে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের পক্ষে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে নৈশপ্রহরী বিদ্যালয়ে পাঠদান করালেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি অল্প সময় ধরে নৈশপ্রহরী আব্দুর রহমানকে শিক্ষার্থীদের সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে সরেজমিন দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিন চতুর্থ শ্রেণিতে হাতে বেত নিয়ে পায়চারি করছেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষের টেবিলেও আরেকটি বেত দেখতে পাওয়া যায়। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানায়, পড়া না পারলে শিক্ষকেরা বেত্রাঘাত করেন।
নৈশপ্রহরী আব্দুর রহমান বলেন, ‘এ বিদ্যালয়ে সব সময় শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ২০১৩ সাল থেকে আমি শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছি।’
সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে শ্রেণিকক্ষের বাইরে না যায় এবং তাদের ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করা হয় না।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষক সংকট থাকায় এমনটি হয়েছে। দুইজন শিক্ষকের পক্ষে একই সাথে তিনটি শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীরা যাতে হৈহুল্লোড় না করে তা দেখার জন্য নৈশপ্রহরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
বিষয়টি জানা নেই জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘নৈশপ্রহরী ক্লাস নেওয়ার যেমন সুযোগ নেই তেমনি শ্রেণিকক্ষে বেতের ব্যবহার বা শিক্ষার্থীদের প্রহারের সুযোগ নেই। সরেজমিন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’