৫০ বছরের দখলযজ্ঞে চললো বুলডোজার

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৩ ০৭:৫১

সুনামগঞ্জ পৌরসভার পাঁচ খাল উদ্ধার শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পৌরসভার মেয়র বিপূল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে এই উদ্ধার অভিযানে নামেন। দিনভর চলে উদ্ধার অভিযান। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার দায়িত্বশীলরা জানান, শহরের পাঁচ খাল উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পৌর কমিশনার গোলাম সাবেরীন সাবু’র পুরাতন বাসস্টেশনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ দিয়ে শুরু হয় শহরের খামারখাল উচ্ছেদ অভিযান। এরপর মেয়র নাদের বখ্ত নিজে উপস্থিত থেকে অভিযান কর্মীদের দেখিয়ে দিলেন তার মায়ের নামে করা হুসেনিয়া নূরজাহান বখ্ত মাদ্রাসার বাউÐারী দেওয়াল। এভাবে একে একে উচ্ছেদ হতে থাকলো প্রায় ৫০ বছরে খালের উপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা।
খালের উপর দীর্ঘকাল বসতি স্থাপনকারী’র মধ্য আরপিন নগরের সুমন মিয়া ও মিনু বেগমসহ অনেকেই জানালেন, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, তবুও সরকারি খালের উপর থাকতে চান না তারা। প্রধানমন্ত্রীর নিকট মাথার গোজার ঠাঁইও চাইলেন তারা।
পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সাতখালের পাঁচটিরই অস্তিত্ব নেই। অবৈধ দখলদারদের কবলে এখন এসব খাল। রয়েছে বাসা, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্তান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সবকিছুই যেন উচ্ছেদ হয় এমন দাবিও জানালেন উচ্ছেদকালে উপস্থিত স্থানীয়রা।
জেলা উদীচী’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বললেন, দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসা সহ ৮৪ জন প্রভাবশালীর দখলে আছে খামার খাল। আমরা চাই সকল স্থাপনা উচ্ছেদ হোক। পানির প্রবাহ আগেকার মতো হোক, অভিযান যেন আইন রক্ষা কিংবা আইওয়াসের জন্য না হয়।
পৌর কমিশনার গোলাম সাবেরীন সাবু বললেন, খাল উচ্ছেদ আমিও চাই। তবে এটা যেন কার্যকর উচ্ছেদ হয়। খালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার না হলে পৌরবাসীর উপকারে আসবে না। খাল উদ্ধার হলে আমার ওয়ার্ডবাসীসহ পৌরবাসীর সঙ্গে আমিও খুশি।
পৌর মেয়র নাদের বখ্ত বললেন, খালগুলো কেবল উদ্ধার নয়, খনন এবং উন্নয়ন না করলে আবারও সেগুলো অবৈধ দখলে চলে যাবে। তিনি এই বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান ও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বললেন, এক সময়ের প্রবাহমান খালগুলোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি জমি চিহিৃত করতে কোন অনিয়ম হবে না বলেও তিনি উপস্থিত সকলকে আশ^াস দেন।
দিনভর উচ্ছেদ অভিযানকালে জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. এহসানুল হক, পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিজন কুমার সিংহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত. সামান্য বৃষ্টি হলেই সুনামগঞ্জ শহরের বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ঘরে ঢুকে ময়লা পানি। শহরের পানি নিস্কাশনের প্রধান পাঁচটি খাল অবৈধভাবে দখলে যাওয়ায় এমন দুর্ভোগ সুনামগঞ্জবাসীর বহুদিনের। প্রায় দুই লাখ মানুষকে এই দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিবেশ আইবিদ সমিতি বেলা শহরবাসীর পক্ষে উচ্চ আদালতে মামলা করলে, আদালতের বিচারক অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার আদেশ দেন। আদালতের এই আদেশ প্রতিপালনেও বিলম্ব হচ্ছিল। শেষে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ এবং শহরের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠন আন্দোলনে নামলে টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। অবশেষে শনিবার শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খামার খাল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে প্রশাসন ও পৌরসভা।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার